কোনো বিবেচনাতেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল নাঃ যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্কঃ>>>>
বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো বিবেচনাতেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনের সময় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মত নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দেশটি।
২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থায়ী সময় বুধবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড, মানবাধিকার, শ্রমিক আন্দোলন, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হত্যা, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, সরকারকর্তৃক অযথা গ্রেফতার, আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ, বাক স্বাধীনতা হরণ, নারীর প্রতি সহিংসতা নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারের সংসদীয় কাঠামোর কথা উল্লেখ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ একাধারে তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এই নির্বাচন কোন বিবেচনাতেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। একইসঙ্গে ভোটার ও বিরোধীদলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মত নানা অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিশ্বস্থ কিছু সূত্র থেকে হয়রানি, হুমকি, গ্রেপ্তার ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে যা বিরোধী দল ও তার সমর্থকদের স্বাধীনভাবে প্রচারণা ও সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে মার্কিন রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেল-সেন্সরশীপের দিকে ঝুঁকছে। আইনে বলা আছে ঘৃণামূলক বক্তব্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কিন্তু এ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানা ভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। এছাড়া সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় ২৩ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের দেয়া তথ্যমতে গুম ও অপহরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এর বেশিরভাগের সঙ্গেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জড়িত। এসব ঘটনা রোধ ও তদন্তে সরকারি উদ্যোগ তেমন ছিল না। অধিকার জানিয়েছে গত বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৮৩টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল প্রকার নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ বা শাস্তিকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তারপরেও গোয়েন্দা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত সন্ত্রাসী ও বিরোধী দলের কর্মীদের থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য নির্যাতন করে থাকে। অধিকার জানিয়েছে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে অন্তত ৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছে। এ ছাড়া ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়টি উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।



