চলছে বই ছাপা, পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিটি জেলায়

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১০ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার:>>>

দেশের প্রায় সাড়ে চারশ’ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে এখন ব্যস্ততার কমতি নেই। একদিকে ছাপাখানার মেশিন চলছে দিন-রাত অবিরাম। অন্যদিকে ছাপা শেষে চলছে সেলাই ও বাঁধাই। আগামী ১ জানুয়ারি নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ঝকঝকে পাঠ্যবই। দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুর হাতে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে তুলে দেওয়া হবে ৩৫ কোটিরও বেশি পাঠ্যবই। আর এ কাজে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’-এর (এনসিটিবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চোখেও ঘুম নেই। দিন-রাত তারা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতবারের চেয়ে এবার পাঠ্যবই ছাপার কাজ অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের নানা শর্তের কারণে গতবার প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের কার্যাদেশ বিলম্বে প্রদান করা হলেও এবার তা হয়নি। গতবারের মতো কার্টিজ পেপারের (মলাটের কাগজ) সংকটও এবার নেই। ফলে ছাপাখানাগুলো নির্বিঘ্নেই বই ছাপছে। এনসিটিবির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আগস্টের মধ্যেই এবার প্রায় ৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হয়ে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

 

 

জানতে চাইলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, পাঠ্যবই ছাপার অগ্রগতি এবার খুবই ভালো। মুদ্রণ নিয়ে কোথাও কোনো সংকট নেই। কোনো সমস্যাও নেই। প্রচুর বই ছেপে রাখা আছে। ঈদের কারণে এতদিন তা উপজেলায় পেঁৗছানো যায়নি। ঈদের ছুটি শেষ। এখন তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশে পাঠ্যবই আনা-নেওয়া করতে এবার প্রায় ১৬ হাজার ৫শ’ ট্রাক ব্যবহার করা হবে। ঈদুল আজহার কারণে ২৯ আগস্ট মধ্যরাত থেকে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন, মোট ৬ দিন ট্রাকে পাঠ্যবই সরবরাহ করা বন্ধ রাখতে এনসিটিবি’কে অনুরোধ করেছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সে কারণে ঈদের আগে-পরে উপজেলা পর্যায়ে পাঠ্যবই পেঁৗছানোর কাজ কয়েক দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন তা আবার শুরু হয়েছে। তবে বন্ধের সময়ে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকা মহানগরীতে যথারীতি পাঠ্যবই সরবরাহ চালিয়ে গেছে।

 

এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক উইং থেকে জানা গেছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্ভাব্য মোট শিক্ষার্থী ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৩ জন। তাদের জন্য মোট ছাপানো হচ্ছে ৩৫ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০৭ কপি পাঠ্যবই।

 

জানা গেছে, আগামী বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য ছাপানো হচ্ছে ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮ কপি পাঠ্যবই। আর আদিবাসী শিশুদের জন্য পাঁচটি ভাষায় ছাপানো হচ্ছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩ কপি বই। প্রাথমিক স্তরের (প্রথম থেকে পঞ্চম) শিশুদের জন্য ছাপার কাজ চলছে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০৫ কপি বই। মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাপা হচ্ছে ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩১ কপি বই। এ ছাড়া মাদ্রাসার দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) ট্রেড শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৯ কপি, মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮১ কপি এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির ৮ হাজার ২শ’ কপি বই ছাপানো হচ্ছে।

 

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী (রতন সিদ্দিকী) সমকালকে বলেন, আগামী বছরের পাঠ্যবই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। গতবারের তুলনায় এবার আমাদের উৎপাদন ও সরবরাহ দুই-ই দ্বিগুণ।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ছাপাখানাগুলোয় বিপুল সংখ্যক পাঠ্যবই ছেপে রাখা হলেও কিছু অঞ্চলে বন্যার কারণে তা বিতরণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে দেশের ৩২টি জেলার ৭২টি উপজেলায় পাঠ্যবই সরবরাহ বন্ধ রেখেছে এনসিটিবি। এ ছাড়া পাহাড়ধসের কারণে পার্বত্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায়ও আপাতত বই সরবরাহ বন্ধ। শিগগিরই এসব জেলায় বই সরবরাহ শুরু করা হবে।

 

 

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা সমকালকে জানান, প্রতিবারের মতো আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা সম্ভব হবে। সে লক্ষ্যে এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিন বই পেঁৗছাতে সক্ষম- এটি এখন প্রতিষ্ঠিত। এখন আমরা বইয়ের যথাযথ মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
জানা গেছে, বর্তমান সরকার ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১২৮টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেছে।

 

 

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, বই বিতরণ হয়েছে ২০১৭ সালে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫ কপি, ২০১৬ সালে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৬০, ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩, ২০১৪ সালে ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ১২ হাজার ৯৬৬, ২০১৩ সালে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬, ২০১২ সালে ২২ কোটি ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৩, ২০১১ সালে ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪ এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১ কপি।

 

 

চলতি শিক্ষাবর্ষের তুলনায় আগামী বছর পুস্তকের সংখ্যাগত দিক থেকে কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিবিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর টিচার্স গাইড ও টিচার্স কারিকুলাম গাইড ছাপাতে হবে না। এগুলো গত বছর ছাপানো হয়েছে। এ ছাড়া বিগত বছরগুলোয় অনেক বই উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ায় এবার চাহিদা নিরূপণের ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনকে মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

 

 

প্রি-প্রাইমারি, প্রাইমারি, মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ইবতেদায়ি, দাখিল ও দাখিল ভোকেশনাল, এসএসসি ভোকেশনালের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক পাচ্ছে। ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক করা হচ্ছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাদের পাঁচটি মাতৃভাষায় মুদ্রিত হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক।

আপনার মতামত লিখুন :