মেধাসত্ত্ব রক্ষায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্ট নিবন্ধন করতে হবে: মোস্তাফা জব্বার
রাকিবুল হাসান:>>>
প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা উদ্ভাবকদের মেধাসত্ত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য, উদ্ভাবন কেবল উদ্ভাবনের মধ্যেই শেষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বেসিস ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডস-২০১৮ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী সে সময় উদ্ভাবিত প্রযু্ক্তির মেধাসত্ত্ব আন্তর্জাতিকভাবে রক্ষা করতে তরুণ উদ্ভাবকদের সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।
জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘যে জাতি ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১ এবং ভিশন-২১০০ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সে জাতি পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমরা আজ নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সাফ ফুটবল দেখছি।’
তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে বেসিসের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘সরকার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বেসিসকে কেবল একটি বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে মনে করে না।’
মন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, ‘জাতির জনকের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পদক্ষেপের ফলে ১৯৭৩ সালে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্সের সদস্যপদ লাভ করে এবং ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। শিক্ষাকে তিনি জাতীয়করণ করেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি থেকে ডিজিটাল যুগের যাত্রা যে জাতির পিতা করতে পারেন, সে জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায় না।’
জননেত্রী শেখ হাসিনার ১০ বছরের বাংলাদেশ বিশ্বে আজ উন্নয়নের রোল মডেল বলে মন্তব্য করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন আমলে কম্পিউটারের ওপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার করে কম্পিউটার সাধারণের জন্য সহজলভ্য করা ও মোবাইল ফোনের মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করে মোবাইল ফোন সহজলভ্য করা হয়। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশকে ইনফরমেশন সুপার হাইওয়েতে পৌঁছানোর যাত্রা আরম্ভ করা হয়। গত ১০ বছরে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর নেতৃত্ব দানকারী দেশের মর্যাদায় উপনীত হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজ এবং বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বক্তব্য দেন।
জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বাংলাদেশ এখন অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা শুধু প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনই করছি না, রফতানিও করছি। গত ১০ বছরে প্রযুক্তি রফতানি বাণিজ্য ৬০ মিলিয়ন থেকে ৮০০ মিলিয়নে উপনীত হয়েছে।’
মন্ত্রী বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ডের ৩৫টি ক্যাটাগরির ৭৬ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এদের মধ্য থেকে ৩২টি দলকে চীনের গুয়াংঝুতে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।



