রাজনীতিতে আমিও একজন স্টার্ট-আপ: পলক

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২৪ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৭

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: অগমেডিক্স যেমন বিশ্বের একটি স্টার্ট-আপ, তেমনি আমিও রাজনীতেতে একজন স্টার্ট-আপ। কারণ, আমরা মাত্র শুরু করেছি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

 

আজ রবিবার রাজধানীরর ঢাকা ক্লাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গুগল গ্লাস স্টার্ট-আপ ও স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানি অগমেডিক্স দেশের প্রথম `রিমোট মেডিক্যাল স্ক্রাইব` ব্যাচের ডিগ্রি প্রদান এবং অগমেডিক্স অ্যাচিভার্স নাইট উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন স্টার্ট-আপ যেমন প্রতিনিয়ত নানান কিছু থেকে শিখে, তেমনি আমিও রাজনীতিতে এসে অনেক কিছু শিখছি। তাই আমিও একজন স্টার্ট-আপ।’ অগমেডিক্স বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এলআইসিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমসিএম বিভাগের সহযোগিতায় অগমেডিক্স তাদের দর্শন ও পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশে স্ক্রাইবদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানের সাফল্যগাঁথা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন অগমেডিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়ান শাকিল। এছাড়াও অগমেডিক্স বাংলাদশেরে কান্ট্র ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান সবার সাথে বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে কোম্পানির মিশন, ভীষণ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা আর স্ক্রাইব পেশার সম্ভাবনা সর্ম্পকে আলোচনা করেন।

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুব শিগগির স্বাস্থ্যসেবায় স্ক্রাইব পেশার বিপ্লব ঘটতে চলেছে। বাংলাদেশে এই পেশার ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মেচিত হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, অগমেডিক্স দেশের অনেক তরুণ-তরুণীকে পৃথিবীর অনেক সেরা চিকিৎসকের সাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে যা ভবিষ্যতে তাদের ক্যারিয়ারে অপর সম্ভাবনা বয়ে আনবে। আমাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যখাতেও এই জ্ঞান কাজে লাগানো যাবে। অগমেডিক্সকে আরও সংহত করার মাধ্যমে তারাও অগমেডিক্সে নিজেদের আরও ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। আমেরিকান স্বাস্থ্যসেবার এই জ্ঞান তারা বিভিন্ন অবস্থানে ব্যবহার করতে পারবেন। স্ক্রাইবরা সপ্তাহে ৪-৫ দিন কাজ করেন, আর এখানে অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে যাবার কোন ব্যাপার নেই।

 

তাদের ভালো পারিশ্রমিক, হেলথ্ ইন্স্যুরেন্স, ফেসটিভাল বোনাস, খাবার ও যাতায়াত সুবিধা দেয়া হয়। একজন স্ক্রাইব ভবিষ্যতে সিনিয়র স্ক্রাইব, স্ক্রাইব ট্রেইনার, টিমলিডার, কোয়ালিটি স্পেশালিস্ট, ম্যানেজার থেকে শুরু করে আরো অনেক উচ্চ পদে যেতে পারেন।

 

২০১৩ সালের শুরুর দিকে অগমেডিক্সআর এন্ড ডিইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকেই উল্লেখ্যযোগ্য হারে এদেশে কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৬ সালে অগমেডিক্স ভবনকে ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালে এই ভবনে তাদের স্ক্রাইব কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছর অগমেডিক্স জিতে নেয় বেসিস আইসিটি অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ প্রথম রানার আপ (স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগে)। ২০১৮ সাল নাগাদ স্ক্রাইব সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত হবে।

 

অগমেডিক্সের ভবিষত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে হাজারো চাকরির সুযোগ তৈরি করা যার অধিকাংশই হতে যাচ্ছে স্ক্রাইব পেশায়। আরও প্রচুর দক্ষ স্ক্রাইব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে স্কয়ার গ্রুপের আওতাধীন এস আই-২ লিমিটেড ২০১৬ সালে অগমেডিক্সের সাথে কাজ শুরু করে। অগমেডিক্সের সাথে কিছুদিন পূর্বেই আরও যোগ হয়েছে এসিই ও সিলেক্ট মার্কেটিং নামক দুটি প্রতিষ্ঠান যারা আরো স্ক্রাইব তৈরীতে সাহায্য করবে।

আপনার মতামত লিখুন :