কোকা-কোলার বোতলে বিকৃত শব্দ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

MD Aminul IslamMD Aminul Islam
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৩ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯

জিএসনিউজ ডেস্কঃ>>>

কোমল পানীয় কোকা-কোলার যেসব বোতলের মোড়কে এখনও বাংলার বিকৃত শব্দ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১১ মার্চ) একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। সেইসাথে ভাষা বিকৃত করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান রানা। কোকাকোলার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এদিন রিটকারী আইনজীবী মনিরুজ্জামান রানা কোকা-কোলার বোতল বিচারপতির সামনে হাজির করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়।

রিটকারীর আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘এ ধরনের ভাষার বিকৃতি বাংলা ভাষার জন্য অপমানজনক। অবিলম্বে বিজ্ঞাপনে ভাষার বিকৃতি বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হোক।’

অন্যদিকে কোকা-কোলার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম বলেন, রিটটি গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া দেশের প্রচলিত আইনে বাংলা ভাষার ব্যবহার কোন অপরাধ নয়।

এ সময় আদালতে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কোকা-কোলার আইনজীবীর কাছে জানতে চান, পানীয়তে বাংলা না লিখলে কী হতো?

কোকের আইনজীবী উত্তরে বলেন, ‘আমার ভালো লেগেছে, লিখেছি। তখন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, তাহলে লিখতেন পানির ঠিলি।’ এ সময় ব্যাপক হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় আদালতে।

এদিকে শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমি আমার জীবনে ‘প্যারা’ শব্দ শুনিনি, ব্যবহারও করিনি। কোকা-কোলায় এটা কী ধরনের শব্দ ব্যবহার?’ মাথা নষ্ট, প্যাচাল, এসব শব্দ ব্যবহারের আগে ভাষাবিদদের সাথে পরামর্শ নেয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান আদালত।

এসব শব্দ শিশুদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট হুঁশিয়ার করে দেন, ভাষা নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান যা খুশি তাই করতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রচারিত কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধেরও নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে রুল জারিরও আর্জি জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন :