ঢাকার বনশ্রীর গৃহকর্মী লাইলী হত্যা মামলায় দুজন রিমান্ডে
স্টাফ রিপোটার:>>>>>
ঢাকার বনশ্রীর গৃহকর্মী লাইলী বেগমের ময়নাতদন্তে গলায় দাগ এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ইতোমধ্যে মামলা করেছে পরিবার। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহকর্তা মুন্সী মইন উদ্দিন ও দারোয়ান তোফাজ্জল হোসেন টিপুকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত হয় লাইলীর। পরে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ তার গলায় কালো দাগ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, “মাথায় মাঝ বরাবর যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তা একেবারে সামান্য। মাথার চামড়া কাটেনি। এটা মৃত্যুর পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামাতে গিয়ে বা নড়াচড়ার সময় আঘাত লেগে থাকতে পারে।
“গলার দাগটি কালো। এটা ফাঁসির দাগ কি না তা বলার সময় আসেনি।”
তদন্ত কর্মকর্তা লাইলীর যে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন তাতে তার মাথায় আঘাতের কোনো চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়নি। শুধু গলায় কালো দাগের কথা বলা হয়েছে।
লাইলীর মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গলা থেকে চামড়ার টিস্যু এবং তিনি ধর্ষিত হয়েছিলেন কি না তা বের করতেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান সোহেল মাহমুদ।
“প্রতিবেদনগুলো পাওয়ার পরেই এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা জানা যাবে,” বলেন তিনি।
এসব প্রতিবেদন পেতে প্রায় দুই মাস লাগতে পারে বলে জানান এই চিকিৎসক।
শুক্রবার বনশ্রীর জি ব্লকের চার নম্বর রোডের একটি সাততলা ভবন থেকে গৃহকর্মী লাইলীর (২৬) লাশ উদ্ধারের পর তাকে হত্যার অভিযোগ এনে এলাকার গৃহকর্মী ও আশপাশের নিম্ন আয়ের মানুষ প্রায় দুই ঘণ্টা ওই বাড়ি ঘিরে রাখে। তারা একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়; পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক মঞ্জুরুল ইসলাম আদালতে বলেছেন, সকাল ৭টায় লাইলী ওই বাসায় কাজে যাওয়ার কিছু সময় পর চেঁচামেচি শুনে ওই ভবনেরই আরেক ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী লাইলীর আত্মীয় নূরনাহার গিয়ে সেখানে তাকে অচেতন দেখতে পায়।
লাইলী কয়েক মাসের বকেয়া মজুরির জন্য ওই বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বোন লাভলী বেগম।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন সমন্বয়টারী গ্রামে লাইলীর বাবার বাড়ি।
শনিবার সকালে ওই বাড়ি থেকে লাভলী বলেন, গত বৃহস্পতিবার লাইলীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন জানিয়েছিল, ছয় হাজার টাকায় বনশ্রীর ওই বাড়িতে কাজ করেন। বেশ কয়েক মাস ধরে বাড়িওয়ালা তাকে ঠিকমতো টাকা-পয়সা দেন না।
“ফলে নিজের বাড়ির ভাড়াও বাকি পড়ছিল। আমার সঙ্গে পরামর্শ করে শুক্রবার বকেয়া টাকা চাইতে গিয়েছিল সে।”
প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়ে কারাবন্দি হন লাইলীর স্বামী। এরপর দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসেন লাইলী। বনশ্রীর পাশে মেরাদিয়া হিন্দুপাড়া বস্তিতে থাকতেন তারা।
এসআই মঞ্জুর বলেন, লাইলী এক বছর আগে এই বাসায় কাজ নেন। তিনি ছাড়াও আরও তিন মহিলা এবং একটি ছেলেও ওই বাসায় কাজ করতেন।
গৃহকর্তা মইন উদ্দিন ওই বাড়ির মালিক। দ্বিতীয় তলায় থাকেন তারা। কাস্টমসের সাবেক সহকারী কমিশনার মঈন বর্তমানে নাসির গ্রুপে কর্মরত।
শুক্রবার বিকালে বিক্ষোভের সময় রুবি নামের এক নারী বলেন, তিনিও এক সময় মইন উদ্দিনের বাড়িতে কাজ করতেন। তিন মাস কাজ করার পর তাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। এরকম অনেককেই টাকা না দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
মইন উদ্দিনের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার কথাও বলেন বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া নারীদের অনেকে।
তবে এই মামলায় গ্রেপ্তার মইনের স্ত্রী শাহনাজ সম্পর্কে আশপাশের সবাই ‘ভালো’ বলেছে বলে দাবি করেন তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর।
এই ঘটনায় লাইলীর ভাশুর শহীদুল ইসলাম রাতে খিলগাঁও থানায় যে হত্যামামলা করেন, তাতে বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও দারোয়ানসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।



