জাল টাকা ঠেকাতে সতর্ক পুলিশ
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন, কোরবানির পশুর হাট ও বিভিন্ন শপিংমলে যেন এই চক্রটি জাল টাকা ছড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। এসব স্থানে পুলিশের বিশেষ নজরদারিও রয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আইজিপি’র সভাপতিত্বে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পশুরহাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, পশুর হাট ইজারাদারের নেওয়া হাসিলের হার দেখানো, নির্ধারিত হারের বেশি আদায় না করা, কোরবানির পশুব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনে ব্যবহৃত নৌকা ও ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে এই জাল নোট তৈরির প্রতারক চক্রকে ঠেকাতে আগে থেকেই মাঠে নেমেছেন থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে জাল নোট চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।। এ সময় কাছ থেকে সাড়ে ১১ লাখ জাল টাকা ও ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ভারতীয় জাল রুপিসহ জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, এরা পেশাদার জাল টাকা তৈরি ও বিক্রি করে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুব কম সময়ের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে জাল টাকা ও রুপি তৈরি করে বেছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল বলেও তারা স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাল টাকার ছড়াছড়ি দেখা যায়। ঈদে গরুর হাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুম থাকবে। কন্ট্রোলরুমে ও বাজারের ইজারাদারদের কাছে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে।’
এদিকে গত ২৪ আগস্ট মগবাজার রেল গেইট এলাকা থেকে দুই লাখ জাল টাকাসহ মো. জাহাঙ্গীর নামের এক প্রতারককে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম। এর আগে গত ২৭ আগস্ট রাতে সাড়ে ৩ লাখ জাল টাকাসহ এক জাল নোট ব্যবসায়ী মো. রনিকে।
গরুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রতারক চক্রকে ঠেকাতে প্রতিটি গরুর হাটে জাল নোট চেক করার মেশিন বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এছাড়া জাল নোট নিয়ে যেন কেউ প্রতারিত না হয়, সে জন্য কিছু সময় পরপর মাইকিং করা হচ্ছে। কোনও নোট নিয়ে সন্দেহ হলে তা নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নিয়ে এসে চেক করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও হাটগুলোতে টহল দিচ্ছে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিবি দক্ষিণ) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘বিভিন্ন গরুর হাটে জাল নোট যেন না ছড়ায়, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিজেরা সতর্ক অবস্থায় আছি। পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতিটি গরুর হাটে সতর্ক করে লিফলেট লাগানো হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সহজে জাল নোট চেক করা সম্ভব হবে। টাকা লেনদেনের সময় অবশ্যই টাকা গুনে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা করবে।’ প্রতিটি হাটে পুলিশের সার্বক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা আছে বলে জানান তিনি।
অন্যান্য বারের চেয়ে এবার জাল নোট প্রতারক চক্রের তৎপরতা কম বলে জানিয়েছেন এই ডিবি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদ আসার আগ থেকেই এই প্রতারকদের ধরতে পুলিশের অভিযান ও হাটগুলোতে পুলিশের প্রচুর নজরদারির কারণে এবার প্রতারকদের তৎপরতা কম। এখনও উল্লেখযোগ্য কোনও তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবে আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।



