ষোড়শ সংশোধনী বাতিল: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২০ এএম, ০১ আগস্ট ২০১৭

স্টাফ রিপোটার:>>>>>

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। তবে হাইকোর্টের রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ ‘এক্সপাঞ্জ’ করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ‘সর্বসম্মতভাবে’ খারিজ করার রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি।

 

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ওইদিন বলেন, ‘আজকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐতিহাসিক রায়। বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে এ মামলা। যে আইন করে সংসদের কাছে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সেটি আজকে বেআইনি ও বাতিল হলো।’

 

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিল পাস হলে এই সংশোধনী বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১০ মার্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ মে মামলার রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত সোমবার এই রায় ঘোষণা করলেন। এছাড়া গত ৮ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। মোট ১১ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শুনানিতে অ্যামিক্যাস কিউরি তাদের মতামত জানান।

 

আদালতে শুনানির সময়ে অভিমতদাতা ১০ অ্যামিক্যাস কিউরির মধ্যে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। বাকি ৯ অ্যামিক্যাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টি এইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের অভিমত দেন।

 

এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে ছিল, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।’

 

রায়ে আরও বলা হয়, ‘কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে।’

 

আদালত রায়ে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারেন না। তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সংসদ সদস্যদের সবসময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তারা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও উন্নত অনেক দেশে সাংসদদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।’

আপনার মতামত লিখুন :