প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি সোনাগাজীর হারুনের মৃত্যুদন্ডাদেশ
স্টাফ রিপোর্টার:>>>>>
সিলেটের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ফেনীর সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আবু ওবায়দা প্রকাশ হারুন (৩৫)সহ ১০ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম এ আদেশ দেন। এই ১০ জনের ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে বলেছেন আদালত। হারুন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) সংগঠনের নেতা ছিলেন বলে জানা যায়।
জানা যায়, ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ করার কথা ছিল। এর আগে ২০ জুলাই ওই কলেজের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান আসামি মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় পালানোর সময় আরেক জঙ্গির সঙ্গে ধরা পড়েন হারুন।
পুলিশ জানায়, জামিনে ছাড়া পেয়ে সে এলাকায় চলে আসে। পরে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ওই মামলায় তাঁকে আবার গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন সোনাগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক তাঁকে যুবলীগ কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন। এ প্রত্যয়নপত্র আদালতেও জমা দেন তিনি। পরে তিনি আবারও জামিন পান। এদিকে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের শহীদ মিনার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তোফায়েল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরন করা হয়। এছাড়াও সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টাসহ দুটি জঙ্গী সংক্রান্ত হত্যা মামলা, চরচান্দিয়ায় হত্যা, ডাকাতি ও বিস্ফোরনসহ মোট ৫টি মামলায় হারুনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, তাঁর বাড়ি সোনাগাজী উপজেলার মধ্যম চরচান্দিয়া ডাক্তার পাড়া গ্রামে হলেও গ্রেফতার হবার আগে বেশ কিছু দিন ধরে ফেনী শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং শাহিন একাডেমি সড়কে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক ছিলেন। সে ওই গ্রামের হাবিবিয়া বাড়ীর মাওঃ আবু তৈয়বের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই চট্টগ্রামের পটিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র ছিলেন। একসময় মাদ্রাসার বন্ধুদের উদ্দেশ্যে সিলেট যায় হারুন, সেখানে জঙ্গী মেসে থাকত সে। সেখান থেকেই তার জঙ্গীদের সাথে যোগাযোগ ও জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঢাকার আদালতেই এ ধরনের পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। এটাই শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রথম রায়।



