আদর্শের পথে এক কর্মীর দীর্ঘ যাত্রা — প্রিয় সোনাগাজী-দাগনভূঞার মুজিবপ্রেমীদের প্রতি আহ্বান

আমি অভিভাবক নই, আমি আপনাদের মতো একজন সাধারণ আওয়ামীলীগের কর্মী।” — আংশিক স্মৃতিচারণ

জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টনজহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১০ এএম, ০৩ নভেম্বর ২০২৫
Oplus_16908288

প্রিয় সোনাগাজী ও দাগনভূঞা এলাকার মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী ভাই-বোন ও প্রিয় বন্ধুগণ, আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ— আমার নামের সঙ্গে ‘অভিভাবক’ কিংবা ‘কাণ্ডারী’ জাতীয় বিশেষণ ব্যবহার করবেন না।

এতে আমি বিব্রত হই, কারণ আমি আপনাদের মতোই একজন সাধারণ আওয়ামীলীগের কর্মী। এই বিশেষণে পৌঁছানোর মতো কোনো আলাদা যোগ্যতা আমার নেই। আপনাদের ভালোবাসার কর্মী হিসেবেই আজীবন আওয়ামীলীগ করাই আমার সর্বোচ্চ অর্জন।

আমি কখনো ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিযোগিতায় নামার জন্য মুজিব আদর্শে দীক্ষা গ্রহণ করিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম।

১৯৮৬-৮৭ সালে নবম শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে নাম লিখিয়েছিলাম। আমার পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম খাজা আহমেদ সাহেব নবাবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলেন।

সেই সময় ফেনীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের ব্যানারে আওয়ামী রাজনীতি পরিচালিত হতো বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জয়নাল আবেদীন হাজারী ভাইয়ের গঠিত ‘মুজিব সেনা’-র মাধ্যমে। ইত্তেফাক, বাংলার বাণী ও খন্দকার মোজাম্মেল হক গেদু চাচার ‘সূর্যোদয়’ পত্রিকাই ছিল আমাদের আন্দোলনের অনুপ্রেরণা।

১৯৮৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে কুমিল্লা শহরের প্রতিটি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করি। সেসময় কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান আজাদ, ভিপি শ্যামল দা, বাবলু ভাই এবং তৎকালীন পৌরসভা চেয়ারম্যান আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজনীতির প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়।

১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাই। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ফেনীর ভাই মঞ্জুরুল আলম শাহীন, অনুপ খাস্তগীর, সোহরাব হোসেন সোহাগ, রিয়াজুল হক রিয়াজসহ অসংখ্য নেতার হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির আইকন আ জ ম নাসির উদ্দিন ভাইয়ের নেতৃত্বে কাজের সুযোগ পাই।

১৯৯৬ সালে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ভাই ও পরবর্তীতে ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কাদের ভাইয়ের স্নেহ ও দিকনির্দেশনা আজও আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

২০০২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। রাজশাহী থেকে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী— দেশের প্রায় ৫০টি সাংগঠনিক জেলায় ও ২০০-এর বেশি উপজেলায় সংগঠনের কাজ পরিচালনার সৌভাগ্য হয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল নেতারা আমাকে পাঁচ প্রার্থীর প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তবে আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে বলেছিলাম— আমি নির্বাচন করব না, শুধু নিজের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে চেয়েছি। নেত্রীর কাছে সেই সততা প্রকাশ করতে পারাটাই আমার গর্ব।

২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সহ-সম্পাদক, পরে ২০১৬ সালে পুনরায় একই পদে দায়িত্ব পাই। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের ভাই নিজে প্রস্তাব দেন, যা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছি। উপজেলা পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করেছি, এক কাপ চায়ের বিনিময়ে কোনো কাজ করিনি— এই বিশ্বাসই আমার প্রাপ্তি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। সরকারি বাসভবনে একরাতও আমি থাকিনি, বরং নিজের অর্থে সেটিকে জনসেবার উপযোগী করেছিলাম। তবু সেই আগুনে শুধু অফিস নয়, আমার জীবনের এক অধ্যায়ও পুড়ে গেছে।

“আমার হৃদয়ে যদি আগুনের লেলিহান শিখাও জ্বলে, তবু আমি অবাক হব না। আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী, মুজিবের সৈনিক।”

শেষকথা:

আমি রাজনীতি করেছি নিজের রক্ত-মাংসের পরিশ্রমের টাকায়। নিজের পরিবারের জন্য কিছু করতে পারিনি, তাতে আফসোস নেই। কারণ, আমি বিশ্বাস করি— আদর্শের পথ কখনো সহজ নয়, তবু এ পথই সত্যের পথ।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু


লেখক: জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ফেনী জেলা আওয়ামীলীগ।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সোনাগাজী উপজেলা।

আপনার মতামত লিখুন :