৭৭ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এটি তাদের টানা অষ্টম পরাজয়।টম ল্যাথামের শতকে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান করা নিউ জিল্যান্ড বাংলাদেশকে বেধে রাখে ২৬৪ রানে। ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ব্যাটে-বলে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। হারের সঙ্গে যোগ হয়েছে মুশফিকুর রহিমের চোটের দুর্ভাবনা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৪১/৭ (ল্যাথাম ১৩৭, গাপটিল ১৫, উইলিয়ামসন ৩১, ব্রুম ২২, নিশাম ১২, মানরো ৮৭, রনকি ৫, স্যান্টনার ৮*, সাউদি ৭*; মাশরাফি ০/৬১, মুস্তাফিজ ২/৬২, তাসকিন ২/৭০, সাকিব ৩/৬৯, সৌম্য ০/২৫, মোসাদ্দেক ০/৪০)।
বাংলাদেশ: ৪৪.৫ ওভারে ২৬৪ (তামিম ৩৮, ইমরুল ১৬, সৌম্য ১, মাহমুদউল্লাহ ০, সাকিব ৫৯, মুশফিক ৪২ (আহত অবসর), সাব্বির ১৬, মোসাদ্দেক ৫০*, মাশরাফি ১৪, তাসকিন ২, মুস্তাফিজ ০; বোল্ট ০/৪৩, সাউদি ২/৬৪, ফার্গুসন ৩/৫৪, নিশাম ৩/৩৬, স্যান্টনার ১/৬১)
ম্যান অব দা ম্যাচ: টম ল্যাথাম
মোসাদ্দেকের অর্ধশতক
নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে পেস বোলিং কতটা সামলাতে পারবেন মোসাদ্দেক হোসেন তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্য জানান দিয়েছেন এই তরুণ। পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক।তাসকিনের বিদায়
লকি ফার্গুসনের বলে উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তাসকিন আহমেদ। তখন ৬ ওভারে ৯০ রান চাই বাংলাদেশের।
ফিরে গেলেন মাশরাফি
দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ফিরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মিচেল স্যান্টনারের বলে অধিনায়ক ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২৪২/৭।
চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মুশফিক
ক্র্যাম্পের সঙ্গে আর পেরে উঠলেন না মুশফিকুর রহিম। দলের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন। তার আগে অবশ্য মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ৫২ রানের ভালো একটি জুটি উপহার দিয়েছেন তিনি।
মাঠ ছাড়ার সময় মুশফিকের রান ৪৮ বলে ৪২। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ক্রিজে আসার সময় ১১.৩ ওভারে ১২৩ রান চাই বাংলাদেশের।বাংলাদেশের দুইশ’ পার
৩৫তম ওভারের শেষ বলে দুইশ’ রানে পৌঁছেছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ ১৫ ওভারে আর ১৪০ রান চাই অতিথিদের। ওভার প্রতি দকার ৯.৩৩ রান।
ছক্কা হাঁকিয়েই আউট সাব্বিরও
সাকিব আল হাসানের মতো ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই ফিরেন সাব্বির রহমান। এবারও বোলার লকি ফার্গুসন। কিছুটা এগিয়ে এসে চমৎকার ক্যাচ তালুবন্দি করেন ট্রেন্ট বোল্ট।
১৬ রান করে সাব্বির ফিরে যাওয়ার সময় অতিথিদের স্কোর ১৬৭/৬।
অর্ধশতকের পর আউট সাকিব
লকি ফার্গুসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেও মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাকিব আল হাসান।
৫৪ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার করেন ৫৯ রান। তার বিদায়ে ভাঙে মুশফিকের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি।সাকিবের অর্ধশতক
বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও লড়াই করেন সাকিব আল হাসান। মিচেল স্যান্টনারের বলে এক রান নিয়ে অর্ধশতক করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৫০ বলে ৫০ রান করতে হাঁকান ৫টি চার ও একটি ছক্কা।
ধীর গতিতে বাংলাদেশের একশ’
২৩তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারের বলে সাকিব আল হাসানের চারে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে বাংলাদেশের সংগ্রহ। এরই মধ্যে ৪ উইকেট হারানো দলটির তখনও ২৭.৪ ওভারে চাই ২৪০ রান। ওভার প্রতি প্রয়োজন ৮.৬৭ রান।
ফিরে গেলেন তামিম
সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ভালো একটি জুটি গড়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। জেমস নিশামের বলে আপার কাট করে ডিপ পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
৩৮ রান করে তামিম ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৮১/৪।
শূন্য রানে মাহমুদউল্লাহর ফেরা
সৌম্য সরকারকে ফেরানোর পর মাহমুদউল্লাহকেও বিদায় করেন জেমস নিশাম। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটক্ষককে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটসম্যান। তিন বলে শূন্য রানে তার ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৪৮/৩।
সৌম্যর দ্রুত বিদায়
প্রস্তুতি ম্যাচ রানে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া সৌম্য সরকার ফিরেন দ্রুত। জেমস নিশামের বলে মিডঅফে কেন উইলিয়াসনের হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান (৮ বলে ১)।
রিভিউ নষ্ট করে ফিরলেন ইমরুল
শুরুতেই জীবন পাওয়া ইমরুল কায়েস সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। টিম সাউদির আগের ওভারটি মেডেন খেলেন। পরের ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ নেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কিন্তু তাতে পাল্টায়নি সিদ্ধান্ত।
২১ বলে ১৬ রান করে ইমরুল ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৩৪/১।
শূন্য রানে ইমরুলের জীবন
মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই ফিরতে পারতেন ইমরুল কায়েস। টিম সাউদিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ছক্কা হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলার পর সেই ওভারে একটি চারও মারেন তিনি।
টম ল্যাথামের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস আর কলিন মানরোর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ গড়েছে নিউ জিল্যান্ড। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে হতাশার দিনে ৩৪২ রানের বিশাল লক্ষ্য পেয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। জিততে হলে গড়তে হবে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড।
১৯৯০ সালে শারজায় দুই দলের প্রথম দেখায় ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান করেছিল নিউ জিল্যান্ড। ২৬ বছর ধরে সেই রানই ছিল সর্বোচ্চ। এবার ক্রাইস্টচার্চে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান করে নতুন রেকর্ড গড়লো কেন উইলিয়ামসনের দল।
বাংলাদেশের তিনশ’ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের কৃতিত্ব আছে তিনটি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে প্রথম জয় পায় তারা। ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে জেতে ৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়র রেকর্ড নিউ জিল্যান্ডেই। গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেলসনে ৩১৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৪১/৭ (গাপটিল ১৫, ল্যাথাম ১৩৭, উইলিয়ামসন ৩১, ব্রুম ২২, নিশাম ১২, মানরো ৮৭, রনকি ৫, স্যান্টনার ৮*, সাউদি ৭*; মাশরাফি ০/৬১, মুস্তাফিজ ২/৬২, তাসকিন ২/৭০, সাকিব ৩/৬৯, সৌম্য ০/২৫, মোসাদ্দেক ০/৪০)তাসকিনের বলে বোল্ড রনকি
এক সিরিজ পর দলে ফেরা লুক রনকি ফিরেন ৫ রান করে। তাসকিন আহমেদের বলে চড়াও হতে গিয়ে বোল্ড হন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।
ল্যাথামকে ফেরালেন মুস্তাফিজ
ক্যারিয়ার সেরা ১৩৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলা টম ল্যাথামকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। স্টাম্পের বাইরের বল তাড়ার চেষ্টায় উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। তার ১২১ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায়।
দেড়শ’ রানের জুটি ভাঙলেন সাকিব
খুনে মেজাজে ব্যাট করা কলিন মানরোকে ফিরিয়ে দিয়ে দেড়শ’ ছাড়ানো জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। পয়েন্টে তাসকিন আহমেদেকে ক্যাচ দেন মানরো। তার ৬১ বলের ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৮টি চার ও চারটি ছক্কায়।
নিউ জিল্যান্ডের তিনশ’
টম ল্যাথামের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং এবং কলিন মানরোর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪৬তম ওভারে তিনশ’ রানে পৌঁছায় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ।
মানরোর অর্ধশতক
চার দিয়ে ইনিংস শুরু করা কলিন মানরো পঞ্চাশে পৌঁছান ছক্কা হাঁকিয়ে। ৪৪ বলে তিনটি করে ছক্কা-চারে আসে বাঁহাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানের তৃতীয় অর্ধশতক।