গর্জে উঠুন সাকিব!

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:২২ এএম, ০৯ জুন ২০১৭

স্পোর্টস ডেস্ক:>>>>

সুযোগ বারবার আসে না। আবার অন্যের আশায় দিন গুনেও লাভ নেই।

জীবনদর্শনের এ দুটি আপ্তবাক্যের চর্চা কি এখন হচ্ছে বাংলাদেশ দলে? হওয়ারই কথা। কে ভেবেছিল, বৃষ্টি ওরকম দিলখোলা হয়ে বাংলাদেশের পক্ষ নেবে, বাজে ক্রিকেট খেলার পরও খুলে রাখবে সেমিফাইনালে ওঠার পথ? প্রকৃতির আশীর্বাদ হয়ে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশকেই। অবশ্য আজ শুধু নিউজিল্যান্ডকে হারালেই হচ্ছে না, মাশরাফি বিন মর্তুজাদের আশায় থাকতে হবে যেন অস্ট্রেলিয়াও হারে ইংল্যান্ডের কাছে। অন্যের ম্যাচে তো আর হাত নেই, তবে আজ নিজেদের কাজটা সেরে রাখায় বাংলাদেশের সামনে বাধা নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডকে একমাত্র প্রতিপক্ষ ভেবে বসে থাকাতেও নিস্তার নেই। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বৃষ্টি এত বেশি, প্রতি ম্যাচের পূর্বাভাসে বিস্তর গুরুত্ব পাচ্ছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। ভাবা যায়, এক অস্ট্রেলিয়াই এখনো পুরো একটি ম্যাচ খেলতে পারেনি এবারের আসরে। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি বাঁচিয়ে দিলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রাপ্য পয়েন্ট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাতে সমতা এলেও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপাস্বপ্নই এখন খাদের কিনারে!

যাক, অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে আর না ভাবলেও চলছে বাংলাদেশকে। আজ ‘পূর্ণদৈর্ঘ্যে’র ম্যাচ চাই বাংলাদেশের। কাকতালীয়ভাবে, গ্রুপের সম্ভাব্য সেরা পছন্দকেই আজ কার্ডিফে পাচ্ছেন মাশরাফিরা। কার্ডিফের এ মাঠ নিয়ে নতুন করে না বললেও চলছে। ২০০৫ সালে এ মাঠেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আর দশটা বড় জয়ের পাশে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনভ্যস্ত কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতাপশালী দলকে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। স্বপ্নের মাঠে আরেকপ্রস্ত সুখস্মৃতি তৈরি করা অসম্ভবও নয়, প্রতিপক্ষ যখন নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড বলেই আশার পালে জোর হাওয়া। এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে বাংলাদেশের কাছে নিউজিল্যান্ড নিতান্তই ‘পুশওভার’, বলে-কয়ে হারিয়ে দেবে। একই কথা প্রযোজ্য নিউজিল্যান্ডের বেলাতেও। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিশ্চিত জয় ভেবে মাঠে নামার দিন অনেক আগেই শেষ কিউইদের। ঘরের মাঠে দুদলই বলতে গেলে অপ্রতিরোধ্য। নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে এসে হারে নিয়ম করে। আবার সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে হেরেছে বাংলাদেশ। নিরপেক্ষ ভেন্যুর সবশেষ স্কোরলাইন ১-১, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচ জেতা বাংলাদেশ কি মানসিকভাবে সামান্য এগিয়ে? হতেও পারে।

এ দ্বৈরথে মানসিকভাবে একজন নিঃসন্দেহে আর সবার চেয়ে এগিয়ে, তিনি বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা এ ব্যাটসম্যান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুই ম্যাচে করেছেন যথাক্রমে ১২৮ ও ৯৫ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেঞ্চুরিতে ভর করেই বাংলাদেশ গড়েছিল ৩০৫ রানের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচে তামিমের ৯৫ রানের ওপর ভর করেও দুই শ পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, ব্যাটিংটা দুই ম্যাচেই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম ম্যাচে তবু তামিমের সঙ্গে তাল মিলিয়েছিলেন সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিমরা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে মিচেল স্টার্কের গতির সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে সব প্রতিরোধ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের ‘উইকলিংক’ হয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান! ১০ ও ২৯—চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম দুই ম্যাচে সেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে ব্যাটিংয়ে এটুকুই পেয়েছে বাংলাদেশ।

শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিংয়েও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সার্ভিস পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বল হাতে ম্যাচের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া সেই সাকিব অনুপস্থিত দীর্ঘদিন। এমন নয় যে ইংলিশ কন্ডিশনে স্পিনাররা কার্যকর হতে পারছেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির, পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম, এমনকি বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্বোধ্য মনে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অফস্পিনার ট্রাভিস হেডকে। সেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ ওভারে ৬২ রান গুনেও উইকেটহীন থেকেছেন সাকিব। সব মিলিয়ে সাকিব যেন নিজের ছায়াও নন এ বিশ্ব আসরে।

অভাবিত হলেও সত্যি যে, এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাকিব আল হাসানের বিকল্প নিয়ে ভাবনা শুরু হয়ে গেছে ক্রিকেটাঙ্গনের অংশবিশেষে। বরাবর সমালোচনা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন তিনি। তবে দীর্ঘ এক যুগের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন কারণে সমালোচিত হলেও এ ধারার মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচয় ঘটেনি সাকিবের। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ আলোচনা তাঁর কানেও গেছে। তাতে ধরে নেওয়া যায়, নৈপুণ্য দিয়ে সব আলোচনা থামিয়ে দিতেও চাইবেন তিনি। তামিমের সাফল্যের তরী তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মৌসুমে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন সাকিব—বিশ্বাস করা কঠিন। অবশ্য ব্যক্তিগত এ হিসাব-নিকাশ নিয়ে ভাবতে বয়েই গেছে বাংলাদেশের। তবে নিশ্চিত করেই বলা যায়, সাকিবের সুসময়ে ফেরা দেখতে অধীর আগ্রহে বসে আছে বাংলাদেশ দলও।

বোলিংটা বরং অপেক্ষাকৃত ধারাবাহিক। মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনকে নিয়ে পেস আক্রমণে পরিবর্তন আনার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রতিপক্ষ যখন নিউজিল্যান্ড, তখন ধরেই নেওয়া যায় মেহেদী হাসান মিরাজকে ড্রেসিংরুমে বসিয়ে রাখার চিন্তাটা সম্ভবত করবে না বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সবচেয়ে বেশি জরুরি সাকিব আল হাসানের গর্জে ওঠা—ব্যাটে এবং বলেও।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও- gsnewsfeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :