ভারতকে গুড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
স্পোর্টস রিপোর্টার:>>>
আইসিসির মেগা ইভেন্টে ভারতের সঙ্গে জিততে পারে না পাকিস্তান। বিগ মঞ্চে ভারতকে সামনে পেলেই নুইয়ে পড়ে পাক শিবির। দীর্ঘদিন ধরে এমন চিত্র ছিল নিয়মিত। তবে সেই চিত্রে পরিবর্তন আনল পাকিস্তান দুর্দান্ত প্রতাপ দেখিয়ে। তারা দেখিয়ে দিল, কিভাবে বিগ মঞ্চে ভারতকে হারানো যায় অনায়াসে, বাড়তি রোমাঞ্চ ছড়িয়ে। সত্যিই, অসাধারণ।
রোববার দ্য ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নতুন ইতিহাসই গড়ল পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল সরফরাজ শিবির।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান। জবাবে বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে ভারত অলআউট মাত্র ১৫৮ রানে, ৩০.৩ ওভারে। ১৮০ রানের বিশাল জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের আধিপত্য জানালো পাকিস্তান।
ভারতের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রানের জয়ের রেকর্ড এটি পাকিস্তানের। আগেরটি ছিল ১৫৯ রানের। ২০০৫ সালে দিল্লিতে এমন জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। যেখানে ভারতের জয়ের টার্গেট ছিল ৩০৪ রানের।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ২০০৭ সালে ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। এক দশক পর সেই হারের প্রতিশোধটা ভালোমতোই নিল মিসবাহউল হকের উত্তরসূরীরা। আর টপ ফেবারিট হিসাবে যাত্রা করেও নিঃশ্বাস দূরুত্বে থাকা শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে পারল না গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
শিরোপা জিততে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দরকার ছিল ৩৩৯ রান। তবে এমন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পাক পেসার মোহাম্মদ আমিরের তোপে দিশেহারা ভারত।
দলীয় ৬ রানের মধ্যেই দুটি উইকেট হারায় কোহলি শিবির। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই মোহাম্মদ আমিরের এলবিডব্লিউর শিকার হন ব্যক্তিগত শূন্য রানে থাকা রোহিত শর্মা।
চাপ সামলাতে পারেননি অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আমিরের দ্বিতীয় ও ম্যাচের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে বেঁচে যান কোহলি। স্লিপে ক্যাচ দিলেও তা লুফে নিতে পারেননি আজহার আলী।
তবে পরের বলেই আউট কোহলি। আমিরের কৌশলি বোলিংয়ে বিভ্রান্ত কোহলি। লেগের দিকে রান নিতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন। যা দুর্দান্ত ভঙ্গিতে লুফে নেন সাদাব খান। দলীয় ৬ রানের মধ্যে নেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরার চেষ্টা করেন ধাওয়ান ও যুবরাজ। সেটাও বেশীক্ষণ স্থায়ী হয় নাই। আবারো আমির ঝলক। এবার বিদায় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ৮.৬ ওভারে আমিরের বলে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দেন ২১ রান করা ধাওয়ান। ভারতের রান তখন ৩৩।
দলের বিপর্যয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন যুবরাজ সিং। ধীরে ধীরে আগাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরও রেহাই পাননি। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় সাদাবের বলে এলবিডব্লিউ যুবরাজ। ৩১ বলে চার চারে ২২ রানে ফেরেন তিনি। পরের ওভারেই নেই মাহেন্দ্র সিং ধোনি। স্কোর তখনও ৫৪। ধোনিকে ফেরান আলোচিত বোলার হাসান আলী। ১৬ বলে ৪ রান করে ইমাদের হাতে ক্যাচ দেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। ভারত শিবিরে তখন দুর্যোগের ঘনঘটা।
৭২ রানের মাথায় পড়ে ষষ্ঠ উইকেট। বিদায় নেন কেদার যাদব। ১৬.৬ ওভারে সাদাবের বলে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দেন ১৩ বলে নয় রান করা যাদব।
শেষের দিকে চেষ্টা করেছেন শুধু হার্দিক পান্ডিয়া। তার ব্যাটেই আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৬ রান। বোলারদের কাছ থেকে তেমন প্রত্যাশাও ছিল না। অশ্বিন, ভুবনশ্বের, বুমরাহ ১ রানের বেশি করতে পারেননি। ৩০.৩ ওভারে ভারত অলআউট ১৫৮ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মোহাম্মদ আমির ও হাসান আলী। শুরুর দিকেই তিন উইকেট নেন আমির। ৬ ওভারে দুই মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে তার শিকার তিনটি। হাসান আলী ৬.৩ ওভারে এক মেডেনসহ ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন তিন উইকেট।
সাদাব খান ৭ ওভারে দিয়েছেন সর্বোচ্চ ৬০ রান। উইকেটও পেয়েছেন একটি। বল হাতে বেশ জ্বলজ্বলে অবস্থান জুনায়েদ খানের। একটি উইকেট পেলেও ৬ ওভারে এক মেডেনসহ দিয়েছেন মাত্র ১৯ রান।
সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন পাকিস্তানের ওপেনার ফাখর জামান। টুর্নামেন্ট সেরা পাক বোলার হাসান আলী। সর্বাধিক ৩৩৮ রান করে সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার জেতেন ভারতের শিখর ধাওয়ান। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হাসান আলী (১৩)। তিনি পান গোল্ডেন বল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর গড়ে পাকিস্তান। দলের হয়ে ঝলমলে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার ফাখর জামান। ১০৬ বলে করেন ১১৪ রান। ওপেনার আজহার আলী করেন ৫৯ রান। মোহাম্মদ হাফিজ ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাবর আজম করেন ৪৬ রান। ২৫ রানে হাফিজের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ইমাদ ওয়াসিম।
ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট লাভ করেন ভুবনেশ্বর কুমার, রবীন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া। ভারত অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে ফাইনাল খেলতে নেমেছে; অন্যদিকে পাকিস্তান দলে এক পরিবর্তন এসেছে। আগের ম্যাচে অভিষিক্ত হওয়া রুম্মান রইস বাদ পড়েছেন, তার বদলে সেরা একাদশে ফিরেছেন মোহাম্মদ আমির।
বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও- gsnewsfeature@gmail.com



