এভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন
স্পোর্টস রিপোর্টার:>>>
লড়াই তার জীবনের আরেক নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের পর থেকেই ইনজুরি নামক ঘাতকের সঙ্গে লড়াই করছেন। দুই হাঁটুতে সাত-সাতটি অস্ত্রোপচার নিয়ে একবারও ভাবেননি ক্রিকেট খেলাটা থেকে তার দূরে থাকা দরকার। বরং ৩৩ বছর বয়সী মাশরাফি বিন মর্তুজা ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে চলেছেন সেই তারুণ্যের উন্মাদনা গায়ে মেখেই। অথচ ব্রেট লি, শেন বন্ডের মতো বোলারা ইনজুরির কাছে হেরে কত আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন ক্রিকেটকে। মাশরাফিকে নেয়ে এই গল্পগুলো পুরোনো। অল্প বয়সী থেকে শুরু করে ক্রিকেট ভক্ত সবারই এসব জানা। কিন্তু মাশরাফি কি শুধু ইনজুরির সঙ্গেই লড়াই করেছেন? ক্যারিয়ারে অন্য অনেক প্রতিবন্ধকতাই তাকে সামলাতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে অধিনায়ক্ত থেকে সরানোর প্রশ্নও যেমন তুলেছে কেউ কেউ। যা নিয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছের মাশরাফি। সমালোচনা নিয়ে বলেছেন, এবাবে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরেজে হঠাৎ করেই টি টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মাশরাফি। এখন শুধু ওয়ানডেটা খেলবেন। সর্বশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার নেতৃত্বে সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যা সেরা সাফল্য। কিন্তু এমন সাফল্যের পরপরই কিনা বাতাসে গুঞ্জন মাশরাফির অধিনায়কত্ব নিয়ে। ২০১৯ বিশ্বকাপের চিন্তায় কারো কারো ভাবনায় নাকি নেই মাশরাফি। লড়াকু মাশরাফি এসব নিয়ে বলছেন, ‘প্রায় প্রতিটি সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচের পরই আমাকে সরানোর জন্য বলা হয়। এভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। জানি, সিরিজের দুটি ম্যাচের পর আমাকে সরাতে বলা হবে। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যা আমি গ্রহণ করেছি।’
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। মাশরাফি ৬.৩ ওভারে ১ উইকেট নেন ৫৮ রান খরচায়। মাশরাফি সেই ম্যাচের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘গত মেতে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে আমি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬.৩ ওভারে ৫৮ রান দিয়েছিলাম। বুঝতে পারি, আমার বোলিংটা ঠিকঠাকমতো হয়নি। তাই পরের দিন নেটে বেশি সময় কাটানোর পর প্রধান কোচ এবং বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের সামনেও বোলিং করি। দু ‘জনের সঙ্গে কথা বলি। এরপর নেটে নিজের সমস্যা দূর করি। যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট খেলা কঠিন।’
কিন্তু কঠিন হলেও মাশরাফি সব সময়ই এসব পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন। তবে কখনো কখনো যে হতাশ হন না তা নয়, ‘কখনো কখনো বিষয়টা কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। আমি অবশ্য ওসব গায়ে মাখি না। শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণে চুপ থাকতে পারি না। নিজের জায়গায় আমি শক্ত। জানি আমার কাজ হচ্ছে একজন খেলোয়াড় হিসেবে পারফর্ম করা।’
বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও- gsnewsfeature@gmail.com



