কাহালু থানার ওসি নূর আলম সিদ্দিকী জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পাতনজা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে আবু মুসা নিহত হন। পরে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।
৩২ বছর বয়সী মুসার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। বিভিন্ন সময় তিনি আবুজার ওরফে আবু তালহা, রবিন, সামিউল নামে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।
ওসি আলম বলেন, রাতে পাতনজা এলাকায় ‘একদল সন্ত্রাসী’ টহল পুলিশের দিকে গুলি ছোড়ে।
“পুলিশ পাল্টা গুলি করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখানে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানান ওসি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন জানান, নব্য জেএমবির সদস্য মুসা পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ‘রাজীব গান্ধী’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীকে গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মুসা গুলশান হামলার অন্যতম ‘পরিকল্পনাকারী’ এবং রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাসহ ২২টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি বলে পুলিশের তথ্য।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “সিরাজগঞ্জে জঙ্গি সংগ্রহ, আত্মাঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ, জিহাদি বই বিতরণ, চাঁদা সংগ্রহ ও হিজরতের জন্য সঙ্গীদের প্রস্তুত করাসহ জঙ্গি-তৎপরতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে জড়িত জঙ্গিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে যে জবানবন্দি দেন, তাতে মুসার নাম উঠে আসে।”