সুজনের ঢাকা জেলা ও মহানগর সম্মেলন অনুষ্ঠিত
নিজেস্ব প্রতিবেদক:>>>>
গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও কার্যকর করা ও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের সংগঠিত হয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের)। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও কার্যকর করতে হলে নাগরিকদের সংগঠিত ও সোচ্চার হতে হয়। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে সুজন ঢাকা জেলা ও মহানগর সম্মেলন-২০১৭ এ তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন সহসভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ, প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সহসম্পাদক জাকির হোসেন, রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স, সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক অজয় রায়, নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠক তাজিমা হোসেন মজুমদার, গোলাম মোহাম্মদ ইদু, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।
সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সুজন সহসভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হক।
বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, সুজন নাগরিকদের সংগঠিত করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করছে। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশ হলো মায়ের মতো। তাই দেশের মধ্যে যদি অসঙ্গতি ও সমস্যা থাকে তাহলে তা নিরসনে নাগরিকদের সংগঠিত ও সোচ্চার হতে হয়। বর্তমানে দেশে যে অবিচার, বৈষম্য, বিচারহীনতা ও জঙ্গিবাদের সমস্যা রয়েছে তা নিরসনেও আমাদের সোচ্চার হতে হবে।
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, সুজন বাংলাদেশে একটি ভিন্ন ধারার নাগরিক আন্দোলন পরিচালনা করছে। নাগরিকদের উদ্যোগে ও অর্থায়নেই এটি পরিচালিত হয়। এটাই সুজনের শক্তি। সুজন ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার ও বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং বিচার ও শাসন ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার জন্য সুজনের এই আন্দোলনকে অব্যাহত রাখতে হবে।
অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সবার প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বর্তমানে দেশে আমরা একদিনের নির্বাচন সর্বস্ব গণতন্ত্র দেখতে পাচ্ছি। একই সঙ্গে বেড়েছে দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতা। শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়নই উন্নয়ন নয়। বরং সর্বস্তরে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলেই বাংলাদেশে সুশাসন নিশ্চিত হবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সুজন ঢাকা জেলা ও মহানগর কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যথাক্রমে এম এন ইসলাম তপন চৌধুরী এবং সেলিমা মশির। সম্মেলনে এম এন ইসলাম তপন চৌধুরীকে সভাপতি ও আবুল হাসনাতকে সাধারণ সম্পাদক করে সুজন ঢাকা জেলা এবং প্রকৌশলী মুসবাহ আলীমকে সভাপতি ও জোবায়েরুল ইসলাম নাহিদকে সাধারণ সম্পাদক করে সুজন মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে নতুন কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।



