বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবিতে গত সোমবার আশুলিয়ার ২৫টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর কয়েকজন মন্ত্রী কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বিফল হন।
বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে গেলে মঙ্গলবার ৫৫টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিজিএমইএ।
এ ঘটনায় শ্রমিক বিক্ষোভে উস্কানি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে সাতটি মামলা হয়েছে, যাতে আসামি করা হয়েছে হাজারের বেশি শ্রমিককে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৯ শ্রমিক নেতা এবং এক সাংবাদিককে।
বিভিন্ন কারখানা থেকে শ্রমিকদের বরখাস্তও করা হচ্ছে। রোববারও ৯১ জন শ্রমিককে বরখাস্তের নোটিস কারখানার ফটকে টাঙিয়ে দিয়েছে হা-মীম গ্রুপ।
তাদের আগে উইন্ডি অ্যাপারেলস ও ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড ২৫৬ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করে।
চাকরিচ্যুত ও মামলার আসামি হওয়া শ্রমিকদের বিষয়ে কী হবে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর বলেন, “এ বিষয়ে আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিএমইএর কিছু করার নেই।”
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের অযৌক্তিক কর্মবিরতির কারণে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এ কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সকল পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
“তবে কিছু দিনের মধ্যেই শ্রমিকরা কাজে ফেরার আগ্রহ দেখানোর পাশাপাশি ৩০টি শ্রমিক সংগঠন কারখানা খুলে দিতে বিজিএমইএর কাছে লিখিত অনুরোধ জানায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, “বর্তমান মজুরি কাঠামোর অধীনে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে যাচ্ছেন মালিকরা। অভ্যন্তরীণ এবং চলমান বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের অবস্থা ভালো নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বতর্মান কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির উপস্থিত ছিলেন।