ঢাকার দক্ষিণ খানের পূর্ব আশকোনার তিন তলা ওই বাড়িতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানের এক পর্যায়ে দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এই দুই নারী। তারা একটি পিস্তল ও গুলিও পুলিশকে দেন।
সোমবার তাদেরকে ঢাকার আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. সায়েদুর রহমান।
শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মেহের নিগার সুচনা সাত দিন হেফাজতের নির্দেশ দেন বলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।
নব্য জেএমবির দুই নেতার স্ত্রীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বোরকা পরা ওই নারীরা নিজেরাও কোনো কথা বলেননি।
ওই বাড়িতে অভিযানে দুজন নিহত হন। তাদের একজন আজিমপুরে নিহত জঙ্গিনেতা তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফ কাদেরী, অন্যজন পলাতক জঙ্গি রাশেদুর রহমান সুমনের স্ত্রী শাকিরা ওরফে তাহিরা।
এছাড়া আহত হন শাকিরার শিশুকন্যা। সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আশকোনায় অভিযানের ঘটনায় মোট আটজনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেছে পুলিশ। সেই মামলায়ই জেবুন্নাহার শীলা ও তৃষাকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
ওই বাড়িটিকে জঙ্গিরা তাদের ‘সেইফ হাউস’ ও কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করত বলে পুলিশ জানিয়েছে। তৃষার স্বামী মুসা বাড়িটি ভাড়া করেছিলেন বলেও জানান তারা।
রাজশাহীর বাগমারার বাসিন্দা মুসার সন্ধান এখনও পায়নি পুলিশ, তাকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
মুসা ও তৃষার এক বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তাকে নিয়ে শনিবার পুলিশের হাতে ধরা দেন তৃষা।
জেবুন্নাহার শীলার স্বামী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদ গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুরের রূপনগরের একটি বাসায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন।
এরপর আজিমপুরে যে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে তানভীর কাদেরী নিহত হন, সেখানেই অন্য জঙ্গি ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দুই সন্তানকে নিয়ে ছিলেন জেবুন্নাহার।
তবে অভিযানের চার দিন আগে তিনি এক বছর বয়সী মেয়েটিকে নিয়ে সেখান থেকে সরে যান বলে পুলিশের ভাষ্য। তার সাত বছর বয়সী মেয়েটি সেখানে অন্যদের সঙ্গে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে।
তারপর থেকে জেবুন্নাহারকে খুঁজছিল পুলিশ, যাকে তিন মাস পর আশকোনার বাড়িটিতে পাওয়া যায়।
সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা জাহিদ ‘নব্য জেএমবি’র শীর্ষনেতা তামিম চৌধুরীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন। তিনি এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন বলে পুলিশ জানায়।
সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে কানাডা গিয়েছিলেন কুমিল্লার বাসিন্দা জাহিদ। সেখান থেকে ফেরার পর তার মধ্যে বদল চোখে পড়ে স্বজনদের। এরপরই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের ভাষ্য।