প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সচিব কে এম নূরুল হুদা।
জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছেঃ ১০:০৫ এএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭0SHARES
স্টাফ রির্পোটার : প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সচিব কে এম নূরুল হুদা, পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের সময় যার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
নতুন ইসি নিয়োগে সার্চ কমিটির ১০টি নামের সুপারিশ থেকে পাঁচজনের এই ইসি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গঠন করেছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান।
রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশে সিইসি পদে নূরুল হুদার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের নাম। ২০০৮ সালে অবসরে যাওয়া আলী ইমাম এবারও বাদ পড়লেন।
১৯৭৩ ব্যাচের সরকারি কর্মকর্তা নূরুল হুদার বাড়ি পটুয়াখালীতে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয় যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে বেশ কয়েকবার নির্বাচনী দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে দীর্ঘদিন ওএসডি থাকার পর ২০০৬ সালে সচিব হিসেবে অবসরে যান তিনি।
সার্চ কমিটির সুপারিশে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আরও যে চারটি নাম ছিল, তারা হলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, অধ্যাপক জারিনা রহমান খান ও অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে শফিউল বলেন, “এখন আমার মনে আসছে না, তবে বড় দুটো দল (আওয়ামী লীগ, বিএনপি) না। অন্য দল।”
নতুন কমিশনারদের মধ্যে বিচারক কবিতা খানমের নাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে এসেছিল বলে শফিউল আলম জানান।
বিএনপির প্রস্তাব করা পাঁচটি নাম থেকে দুজন গল্পকার মাহবুব তালুকদার ও অধ্যাপক তোফায়েলের নাম সার্চ কমিটির ১০ জনের তালিকায় এসেছিল বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তার মধ্য থেকে একজন পেয়েছেন রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আগেই জানিয়েছিল তারা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত মেনে নেবে; ইসি গঠনের পর দৃশ্যত অসন্তুষ্ট বিএনপি বলেছে, তারা মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিদায় নিচ্ছেন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি; তারপর শপথ নেবে নূরুল হুদার ইসি। এটি হবে বাংলাদেশের দ্বাদশ ইসি।
কাজী রকিব কমিশনের বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় সাংবিধানিক এখতিয়ার অনুযায়ী নতুন ইসি গঠনের উদ্যোগ নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন তিনি। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে সদস্য করা হয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, পিএসসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য শিরীণ আখতারকে।
সার্চ কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নামের প্রস্তাব নিয়ে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর তারা ২০ জনের নামের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেন।
সোমবার বিকালে শেষ বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে তারা তালিকাসহ নিজেদের কাজের প্রতিবেদন নিয়ে সন্ধ্যায় যান বঙ্গভবনে। তা তুলে দেন রাষ্ট্রপতির হাতে।
এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল সাংবাদিকদের জানান, রাত ৯টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। তোড়জোড় দেখে রাত ৮টার সময় অতিরিক্ত সচিব আব্দুল ওয়াদুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন ইসির প্রজ্ঞাপন রাতেই হতে পারে।
এরপর সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত ১০ জনের নাম পড়ে শুনিয়ে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন নির্বাচন কমিশনারের নাম ঘোষণা করেন।
নতুন নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ আদেশ সোমবারই জারি করা হবে জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শফিউল বলেন, “আশা করছি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো বিতর্ক হবে না।”
তার আধা ঘণ্টা পরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন ইসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
একটি রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ের পরে সার্চ কমিটিতে নাম জমা দিয়েছিল জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মোট ১২৮টি নাম সার্চ কমিটিতে জমা পড়ে।
পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশনে বড় বড় সব দলের (প্রস্তাবিত) নামই আছে বলে জানান শফিউল।
সার্চ কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশে কোন দল কোন কোন নামগুলো প্রস্তাব করেছিল- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “সেটা রেকর্ড চেইক করে বলতে হবে, আমার মেমেরিতে নাই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সার্চ কমিটিতে জমা দেওয়া ব্যক্তিদের নির্দলীয় বলেই মনে করছেন শফিউল আলম।
“নাম দিলেও এগুলো কিন্তু নির্দলীয়।”
গভীর রাতে নিজের ফ্সেবুক পাতায় মন্ত্রিপরিষদ পরিষদ সচিব শফিউল লিখেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সার্চ কমিটির দিনপঞ্জি
>> নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
>> রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন ইসি গঠনের জন্য ২৫ জানুয়ারি সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি।
>> সার্চ কমিটিকে ১০ কার্যদিবস, অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে বলা হয়। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এবার একজন নারীও নিয়োগ পাবেন জানিয়ে সে অনুযায়ী সুপারিশ করতে বলা হয়ে কমিটিকে।
>> গত ২৮ জানুয়ারি প্রথম বৈঠকে বসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম প্রস্তাব চায় সার্চ কমিটি। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেক দলকে পাঁচটি করে নাম জমা দিতে বলা হয়।
>> ৩০ জানুয়ারি ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে বসে তাদের মতামত শোনেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। বিশিষ্টজনরা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ, সৎ, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার জন্য সার্চ কমিটিকে পরামর্শ দেন।
>> সার্চ কমিটির চিঠি পাওয়ার পর ২৫টি দল ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামের প্রস্তাব জমা দেয়। সেসব প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসে সেদিনই ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন সার্চ কমিটির সদস্যরা।
>> ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আরও চারজন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বসে মতামত নেয় সার্চ কমিটি। যাচাই বাছাই শেষে এই কমিটি যেসব নাম সুপারিশ করবে, রাষ্ট্রপতি তার বাইরে যাবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন বিশিষ্টজনদের একজন।
>> সেদিনের বৈঠকে অংশ নেন সাবেক সিইসি মোহাম্মদ আবু হেনা, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
>> ২ ফেব্রুয়ারি আবার বৈঠকে বসে সার্চ কমিটির সদস্যরা সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসা নামগুলো পর্যালোচনা করেন। সেদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, তালিকা চূড়ান্ত করতে ৬ ফেব্রুয়ারি আবারও বসবে সার্চ কমিটি।
>> সোমবার বিকালে বসে সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে এবং পরে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। রাতেই রাষ্ট্রপতির নতুন ইসি গঠন করেন।



