উপজেলারচর আহম্মদপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন বলেন, “শাকিল কিছুদিন আগে আমার সাথে দেখা করে। তখন সে আমাকে বলে, কয়েকদিন পর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই হবে, আপনি নিজের নাম ঠিক রাখতে চাইলে আমাকে দশ হাজার টাকা দিতে হবে, তা না হলে আপনার নাম বাদ পড়বে।
“আমি টাকা না দিলে দুদিন পর আমার ফেইসবুক মেসেঞ্জারে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে আবার টাকার জন্য ফোন দেয়। এই ঘটনার সাথে সাথে আমি ঢাকা থাকার কারণে কলাবাগান থানায় একটি জিডি করি।”
টাকা না দিয়ে জিডি করায় শাকিল এখন মন্ত্রণালয় থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাকিল সাংবাদিক, উকিল পরিচয় দিয়ে দুই বছর ধরে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. সাফিউদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমি প্রতিবাদ করায় সে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে আমার যুদ্ধাহত মুক্তি ভাতা বন্ধ করে দেয়। তারপর আমি ইউএনও স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই ভুয়া সাংবাদিককে ডেকে আনলে সে কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যায়।
“কীবলব ভাতিজা লেখাপড়া শিখি নাই, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্তেও আমি তার যন্ত্রণায় আছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিল বলেন, “যে লোক আপনাকে অভিযোগ দিয়েছে তাকে আমার সামনে এনে দাঁড় করান, সে (আব্দুল মতিন) সঠিক মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নামের পাশে মুক্তিযোদ্ধা লাগান।
“আমাকে মতিনের পক্ষ হয়ে জিডি করলে দশ হাজার টাকা দেবে বলেছিল, তাই আমি নিজেই জিডি করে দিয়েছিলাম। এখন সে আমার টাকা দেয় না, বলে চাপ দিয়েছিলাম। আর সাফিউদ্দিনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়েছে।”
অভিযোগ পেয়ে শাকিলকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছিলেন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদ বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেখাতে বা কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আসতে বললে সে পালিয়ে যায়।
“এই শাকিল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বিভিন্ন সমস্যায় ফেলে হয়রানি করে বলে আমার কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে।”
শাকিল মাদক ও আইসিটি আইনের দুই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছু দিন কারাগারে ছিলেন বলে রতন মিয়া নামে তার এলাকার এক বাসিন্দা জানান।
তিনি বলেন,“২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মনোহরদী থানার সামনে থেকেডিবি পুলিশ ২৫টি ইয়াবাসহ শাকিলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে প্রায় এক মাস তাকে জেলে থাকতে হয়।
“এছাড়া গত বছরের শেষ দিকে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এম এ হান্নান ফিরোজেরকরা তথ্য-প্রযুক্তি আইনেরমামলায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করলে জেলে যান শাকিল।”
এ বিষয়ে শাকিল বলেন, “আমার নামে যে দুইটা মামলা হয়েছিল, সেই দুই মামলা থেকেই আমি খালাস পেয়েছি।”