সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, শিশু ও তরুণরা তাদের শিক্ষাক্রমে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে পাবে এবং এই চেতনাকেই ধারণ করবে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্রমে যে পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে, তাতে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।
“একটি বিশেষ ধর্মের লেখকদের লেখাকে বাদ দেওয়া এই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিটাই তো একটি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। তাই যে লেখাগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে সেই লেখাগুলো পাঠ্যপুস্তকে পুনঃস্থাপন করতে হবে।”
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, “সাম্প্রতিককালে পাঠ্যপুস্তকে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটি ভয়াবহ। আগামী প্রজন্মকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য, সাম্প্রদায়িক এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটা প্রজম্ম গড়ে তোলার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে, যার ফলে মাদ্রাসামুখী একমুখী শিক্ষার দিকেই আমরা যাচ্ছি।”
এই কাজ সরকারের অনুমতি ছাড়া হয়নি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একদিকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চিন্তার কথা বলবো, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলবো, জঙ্গিবাদ দমন করবো; অন্যদিকে পাঠ্যপুস্তকে আমরা এই অবস্থার সৃষ্টি করবো- এই দ্বিমুখী নীতি চলতে পারে না, রাজনীতির খেলাও এখানে চলতে পারে না।”
রামেন্দু মজুমদার বলেন, “এবার ৪০ লাখ বই ছাপা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে সেই ৪০ লাখ বই ফেরত এনে বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন এই পাঠ্যসূচি দেওয়া হয়েছে।
“আপনারা দেখেছেন যে, পত্র-পত্রিকায় সবই বেড়িয়েছে, হেফাজতে ইসলাম তালিকা দিয়েছিল কোন বই থেকে কি কি বাদ দেওয়া হবে সেই তালিকা ধরে ধরে ১৭টি রচনা বাতিল করা হয়েছে। যখন হেফাজতে ইসলাম অভিনন্দন জানালো যে তাদের দাবি মেনে নিয়ে ১৭টি রচনা বাদ দেওয়া হয়েছে তখনি আমরা জানতে পারলাম যে থলের বিড়ালটা বেড়িয়ে গেছে।”
নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “বাংলাদেশের তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা বাতিল করে একমুখী শিক্ষাব্যস্থা তৈরি করতে হবে, যার মধ্য দিয়ে আগামীতে তরুণদের মধ্যে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে ওঠবে।”
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক বক্তব্য দেন।