অধিকাংশ পারিবারিক ব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ দক্ষতা ও সামর্থ্যের ঘাটতি

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২২ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

বিশ্বজুড়েই পারিবারিক ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ বেশি, বাংলাদেশে তা আরও বেশি। দেশের পারিবারিক ব্যবসায় পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এগুলো হচ্ছে দক্ষতার প্রশ্ন, উদ্ভাবন সক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা। তবে বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়েও ভালো। গত বছর প্রবৃদ্ধির বৈশ্বিক গড় ছিল যেখানে ৩৪ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের তা ছিল ৫৩ শতাংশ।

বিশ্বখ্যাত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) ‘বৈশ্বিক পারিবারিক ব্যবসায় জরিপ ২০১৮’ প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে। পারিবারিক ব্যবসায়ের ওপর করা পিডব্লিউসির এ প্রতিবেদন গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়। পিডব্লিউসি দুই বছর পরপর এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও পারিবারিক ব্যবসায়ের ওপর বাংলাদেশে করেছে এবারই প্রথম।

জরিপে ৫৩টি দেশের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ব্যবসায়ের বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ ডলারের বেশি রয়েছে এমন ২ হাজার ৯৫৩ জন ব্যবসায়ীর। সরাসরি সাক্ষাৎকার, টেলিফোন ও অনলাইনে গড়ে সবাই কথা বলেছেন ৩৫ মিনিট করে। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জগুলো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের চেয়েও বেশি। দক্ষতার প্রশ্নে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেখানে ৬০ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ৬৬ শতাংশ। তবে উদ্ভাবনী সক্ষমতায় বৈশ্বিকের ৬৬ শতাংশের চেয়ে বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ একটু কম অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ৪৯ শতাংশের চেয়ে বাংলাদেশে ১৪ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা জ্বালানি ও কাঁচামালের দামে। এ ব্যাপারে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেখানে ৪৩ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ৬৩ শতাংশ। আবার তথ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেখানে ৩৯ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ৫৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ব্যবসায়ের পেশাগত দিক, সাইবার নিরাপত্তা, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অর্থের সংস্থান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, দুর্নীতি, উত্তরাধিকার ইত্যাদি। তবে হতাশার কথা রয়েছে যেমন, আশার বাণীও রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের ৫০ শতাংশই মনে করেন, ভবিষ্যতে তাঁরা নতুন নতুন রপ্তানি বাজারের দিকে যাবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে পারিবারিক ব্যবসায়ের পুঁজির উৎস বহুমাত্রিক হলেও ব্যাংকঋণই হচ্ছে প্রধানতম উৎস। শেয়ারবাজার, ভেনচার ক্যাপিটালও পুঁজির উৎস হিসেবে রয়েছে, তবে সেগুলো ব্যাংকের চেয়ে অনেক কম।

দেশের পারিবারিক ব্যবসায়ে ব্যাংকঋণ ৯৪ শতাংশ, এ ব্যাপারে বৈশ্বিক হার ৮১ শতাংশ। আবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা করে ৬৩ শতাংশ, বৈশ্বিক গড় যেখানে ৭১ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ৭৫ শতাংশ পারিবারিক ব্যবসায়ে পরিবারের বাইরের দক্ষ লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ভারতেও একই প্রবণতা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :