নজরদারিতে আসছে নয় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্থিক লেনদেন রয়েছে এমন নয় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেশে নিয়মিত কর দিচ্ছে কি-না বা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত কি-না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এনবিআরের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
এনবিআর সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ পাচার ঠেকাতে বিদ্যমান ট্রান্সফার প্রাইসিং আইনকে সক্রিয় করার নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। ওই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলের কর্মকর্তারা। দীর্ঘ সময় অকার্যকর থাকার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে এনবিআরের ট্রান্সফার সেলকে পুনর্গঠন করা হয়। এই সেলের সমন্বয়ক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম পরিচালক শাব্বির আহমেদ বৈঠকে জানান, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে এমন ৯২১ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এদের লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। এ লক্ষ্যে কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে।
অর্থ পাচার বন্ধে ছয় বছর আগে ট্রান্সফার প্রাইসিং নামে আইন প্রণয়ন করে সরকার। মূলত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অন্য দেশে তাদের শাখার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য কারসাজি করে মূলধন বা সম্পদ হস্তান্তর করে, যা ট্রান্সফার প্রাইসিং নামে পরিচিত। কর ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ উপায়ে টাকা পাচার ঠেকাতে ২০১২ সালে এ আইন করা হয়। তবে এ আইনের প্রয়োগ দেখা যায়নি।
সূত্র জানায়, প্রতিবছর কর ফাঁকির মাধ্যমে কী পরিমাণ টাকা দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে পাচার হয়, তার কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য নেই। জানা যায়, বাংলাদেশে ব্যবসারত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের প্রকৃত আয় গোপন করে কম আয় দেখিয়ে মুনাফার একটি অংশ তার দেশে নিয়ে যায়। বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা অফিসের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য কারসাজি করে অবৈধ পন্থায় মূলধন পাঠাচ্ছে। দেশি প্রতিষ্ঠানও এ কাজে পিছিয়ে নেই। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও উল্লিখিত আইনটি করা হয়।
এনবিআর সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ পণ্য আমদানিতে প্রকৃত মূল্য ঘোষণা করা হয় না। যে কারণে বিপুল পরিমাণ রজস্ব ফাঁকি হয়। ফাঁকি দেওয়া টাকার বড় অংশই চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। অর্থ পাচারের ঘটনা বেশি ঘটছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পণ্যমূল্য কারসাজির মাধ্যমে।
এনবিআর সূত্র বলেছে, শুধু বহুজাতিক কোম্পানি নয়, অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠানও কর ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে টাকা পাচার করছে। দেশি এসব প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে অডিটের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের আড়ালে আন্ডার এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হচ্ছে।



