ঈদে শতভাগ বোনাস দাবি বেসরকারি শিক্ষকদের

GS News 24GS News 24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:০২ এএম, ০৪ জুন ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টারঃ>>>

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে-অর্ডার) শিক্ষকদের পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বোনাস হিসাবে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ প্রদান করা হয়। এবং কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ দেওয়া হয়। দুই ঈদ শিক্ষক-কর্মচারীরা এ বোনাস পেয়েছে। ৫০০ টাকা ভাতা, বাড়ি ভাড়া ১৫ শ ‘টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১৫ সাল থেকে চালু হয় বৈশাখী ভাতাসহ সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা সব ভাতা দেয়ার দাবি দাবি করে বেসরকারি শিক্ষকরা।
এই দাবির সঙ্গে বেসরকারী শিক্ষক সংগঠনগুলি একা এ দাবি থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষক সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে কিন্তু কখনও কখনও একটি মঞ্চে এ দাবি উত্থাপিত হয়নি। শিক্ষক সংগঠনসমূহ এই ভাতা এবং বোনাসের জন্য সরকার কত টাকা প্রয়োজন পড়বে, তার কোন পরিসংখ্যান-হিসাব শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ নেতারও জানা নেই।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান সরকার সমর্থক প্রবীণ এক শিক্ষক নেতা জানান , শিক্ষক নেতারা এখন নিজ সংগঠন এবং পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। তারা শিক্ষকদের স্বার্থের দিকটি আগের মত গুরুত্ব দেয় না সরকার আমলারা যে তথ্য দিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে, তার বিপরীত সঠিক তথ্য-উপাত্ত কোনও শিক্ষক নেতা এখন দিতে পারে না তাই শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি এখন আর নীতিনির্ধারকদের স্বপ্রণোদিত না হলে, আদায় বা মেনে নেবেন না শিক্ষক নেতাদের কাছে এখন কোন আপডেট তথ্য-উপাত্ত নেই শিক্ষক নেতারা এখন এ সব বিষয় নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। তিনি আরও বলেন, এ সব কারণে শিক্ষক আন্দোলন এখন শিক্ষকদের স্বার্থের চেয়ে নেতাদের পদ-পদবি এবং সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি এবং দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয় অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

 

যদিও দেশে মাধ্যমিক শিক্ষার 97 শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয় বেসরকারী ব্যবস্থাপনায়। শুধু তিন-চার শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিচালিত সরকার বা বেসরকারী নিয়ন্ত্রণে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ সরকারি বেতন স্কেল অনুসারে বেতন সহ অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে। বিপরীত বেসরকারি শিক্ষকদের শুধুমাত্র একটি অংশ সরকারি বেতন ভাতা পাওয়া হচ্ছে। সারা দেশ এ সংখ্যা হচ্ছে প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ অথচ সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষক সংখ্যা হচ্ছে 10 লাখ। পরিসংখ্যান বেনবেইজ

 

 

 

এত বিপুল পরিমাণ শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনভোগী পেয়ে তাদের নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে আবারও রাজধানী কেন্দ্রীয় বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশ সীমিত অঞ্চল এবং অনেক জেলা শহরে বেসরকারী শিক্ষক নিয়মিত এবং চাহিদা-যোগ্যতা নিরীক্ষিত বেতনভাতা পান না। অথচ বেসরকারি শিক্ষকেরা দেশে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার টিক্যায় রাখা আছে।

 

 

 

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানদণ্ডের বিচারে সকলেরই নির্দেশনাটি বিবেচনা করা হয় বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে। পাবলিক পরীক্ষার অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের জিপিএ মান, পাসের হার সব কোন দিকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ছাত্রদের এগিয়ে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের ছাপিয়ে সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা কখনোই শীর্ষে যাবে না। অথচ সরকার ও নীতিনির্ধারকরা সর্বদা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বলবে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের মধ্যে আকাশ-পাতাল বেতন-ভাত বৈষম্য রেখে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করা হয়। তারা বলেন, সরকারকে এ বৈষম্য বন্ধ করার উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

 

 

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ট্রেজারার এবং বাংলাদেশ প্রিন্সিপাল পর্ষদের সভাপতি মঞ্জুরুল হান্নান বলেন, বৈষম্য বিভাজন কখনো মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত হতে পারে না। আর বিলম্ব না করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা চালু করা তিনি বলেন, এ সরকারের কাছে নীতি-আদর্শের প্রশ্ন সব সময়ই যুগ।

 

 

 

বেসরকারি শিক্ষকদের একের বৃহত্তর সংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী ওক্যজোট চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল মো: সেলিম ভুয়ায়া এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষার অনিয়ম চলছে, মানসম্পন্ন শিক্ষার সাথে তুলনা করলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে দুরূহ হয়ে পড়ছে। বৈষম্য সৃষ্টি এবং বিমাতাসুলভ আচরণ করছে সরকার সমাজে বিভাজ তৈরি হচ্ছে শিক্ষকদের দোষারোপ করা, কখনও মানসয় শিক্ষণে আশা করাটাই দুরাশা তিনি অবিলম্বে মাধ্যমিক স্তরে দেশব্যাপী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়করণের দাবি জানান। বিচ্ছিন্নভাবে সরকারী শিক্ষার ফলে বৈষম্য আরো স্পষ্ট হচ্ছে, যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে, রাজনৈতিক বিবেচনায় এখন জাতীয়করণের ফলে, সরকারের বিরুদ্ধে শুধু শিক্ষকরা নয়, সংশ্লিষ্ট এলকার জনগণও বিরক্ত হচ্ছে।

 

 

 

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যসচিব ও সরকার সমর্থক শিক্ষক সংগঠন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক মো। শাহজাহান আলম সজু আজ বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণন উৎসব ভাতার দাবি দীর্ঘদিন। পবিত্র ঈদ উৎসব সবার শুধু সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা কেবল নয়, তারা শতভাগ উৎসব এবং বোনাস পাবেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদ উৎসব এভাবে তারা সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সঠিক পরিসংখ্যান বলার অপেক্ষা রাখে না, তবে, 25 শতাংশ এবং 50 শতাংশ 186 কোটি টাকা, সম্ভাব্য 5 শ ‘কোটির মত প্রয়োজন হতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বলেন, শতভাগ উৎসব ভাতা না দিয়ে সরকার বেসরকারী শিক্ষকদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা।

আপনার মতামত লিখুন :