ইন্টার্নিতে কি করতে ও কিভাবে করতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার:>>>
আমরা সাধারণত প্রথম প্রথম অনেকই বুঝতে পারি না যে, ইন্টার্নিতে কি করতে ও কিভাবে করতে হবে–যখন আমাদের পলিটেকনিক গুলোতে ইন্টার্নির নোটিশ আসে। তখন আমরা এই বড় ভাই, সেই বড় ভাই-আপুদের কাছে ছোটাছুটি করতে থাকি–আসলে কি করবো বুঝতে পারি না। স্যারদের কিছু জিজ্ঞেস করলে সঠিক বা নির্দিষ্ট কিছু তথ্যও পাওয়া যায় না। তাই আজকের লেখা—আগামীতে যারা ইন্টার্নিতে যাবেন এবং বর্তমানে যারা ইন্টার্নিতে আছেন তাদের জন্য।
ইন্টার্নির ধাপঃ
১. ইন্টার্নির প্রথম ধাপ হচ্ছে আপনি কি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান তা ডিসাইড করতে হবে বা যদি আগে থেকেই ডিসাইড করে থাকেন কোনটাকে প্রফেশন হিসেবে বেছে নেবেন, তবে সেটাকে আরেকবার স্মরণ করে দেখুন এবং বর্তমান চাকরি ও ব্যবসার বাজারে বিবেচনা করতে ভুল করবেন না।
২. মনে করুন আপনি ওয়েব ডেভেলপার হবেন তাহলে আপনি দেশের সেরা কয়েকটা ওয়েব ডেভেলপার কোম্পানির তালিকা তৈরী করে ফেলুন এবং মিড পজিশন গুলোর মধ্যে নামকরা একটা প্রতিষ্ঠানকে সিলেক্ট করুন।
৩. এরপর ওই প্রতিষ্ঠানে আপনার আত্বীয় স্বজন দ্বারা অথবা নিজেই যোগাযোগ করে যেনে নিন, তাদের কাছে ইন্টার্নি করার সুযোগ আছে কিনা।
৪. যদি সুযোগ থাকে, তাহলে সুযোগ থাকা সাপেক্ষে বা ইন্টার্নি করার জন্য এবার অনুমতিপত্র বা অফার লেটার আপনার পলিটেকনিক থেকে লিখে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সাক্ষর ও সিলসহ যুক্ত করে নিজ হাতে আবেদন পত্রটি আপনার কাংখিত ইন্টার্নি ইচ্ছু প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে আসুন। অবশ্যই আবেদনের সঙ্গে আপনার সি.ভি যুক্ত করবেন। সরকারী প্রতিষ্ঠান হলে সিম্পল সি.ভি দেবেন, আর বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হলে আপনার সি.ভি অনেক সুন্দর করে সাজাবেন।
৫. তারা ইন্টার্নির শুরুর পূর্বে আপনার কাছ থেকে ইন্টারভিউ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার কাজের বিষয়ভিত্তিক বেসিক পড়াশুনা করবেন, যাতে তিনটা প্রশ্ন করলে অন্ততপক্ষে দুটি প্রশ্নের উত্তর আপনি সঠিকভাবে দিতে পারেন। প্রশ্ন না পারলে, ” দুখিত স্যার স্মরণ করতে পারছি না” -বলে স্কিপ করে যাবেন। কখনোই ”জানি না, পারি না, বা ভুল উত্তর দিয়ে বোকামি করবেন না। “
#নিচের লিংকে অফার লেটার এর নমুনা সহ সরকারী প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্র্নির বিষয়াদি উল্লেখ করা আছে-
ইন্টার্নিতে কি করতে হবেঃ
১. সব সময় ফরমাল ড্রেস ( অফিস টি-শার্ট, প্রিণ্ট ফুলহাতা/হাফহাতা শার্ট, কালো বানানো বা গেভাডিন প্যান্ট, শু-জুতো) পড়বেন। হাতে ঘড়ি পড়বার অভ্যেসটাও রাখবেন। আগে থেকে সুন্দর করে চুল কেটে রাখবেন। ভালো পারফিউম ব্যবহার করবেন ।
২.আপনাকে যে সময়ে উপস্থিত হতে বলবে তার চেয়ে সব সময় নির্ধারিত সময়ের আগে উপস্থিত থাকবেন।
৩. যদি কোন কাজ দেয়া হয় তাহলে তা নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ সম্পন্ন করবেন।
৪. সব সময় নুন্যতম দুটি কলম, ডাইরি আপনার সঙ্গে রাখবেন ।
৫. আপনি যদি ব্যাগ ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই হাত ব্যাগ ব্যবহার করবেন ।
৬. তাদের কাছে সর্বদা কাজ শেখার আগ্রহ দেখাবেন।
৭. সবার সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহার ও সখ্যতা বজায় রাখবেন। সবার মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করে রাখবেন। নিয়মিত সালাম, শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ভুল করবেনা।
৮. আপনি যার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখলে কাজ শিখতে পারবেন বা ইন্টার্নি পরবর্তীতে চাকুরি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রাখবেন, এমনকি ইন্টার্নির পরেও যেন য। নিয়মিত তাদের সাথে শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের মত সৌজন্যমুলক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন।
৯. ইন্টার্র্নির শেষে ইণ্টার্নির সার্টিফিকেট তোলার পর ঐ প্রতিষ্ঠানের সবাইকে খুশি করার জন্য ও তারা যেন আপনাকে ভালো করে চিনে তার জন্য নুন্যতম মিষ্টিমুখ করাবেন, আর উল্লেখযোগ্যদের লাঞ্চ অফার করবেন। এটা আপনাকে কাজ শেখানোর তাদের সন্মানীস্বরুপ একধরনের সামাজিকতা হবে।
ইন্টার্নিতে কি করা যাবে নাঃ
১. ভুলেও জিন্স বা উদ্ভট বা প্লেবয় জাতীয় পোশাক পড়ে যাবেন না, হাতে লকেট, চুড়ি ইত্যাদি নিয়ে যাবেন না। চুল বড় বড় রাখবেন না।
২. ওখানে গিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় এমন কাজ কখনও করবেন না ।
৩. নিজের পলিটেকনিককে কখনো বদনাম করবেন না কিংবা বদনাম হতে দেবেন না।
৪. ওদের সামনে কখনও ওভার স্মার্ট হবার চেষ্টা করবেন না।
৫. কখনো কারো বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ করবেন না।
৬. প্রতিষ্ঠানের নিচু পদের বা ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারিদের সঙ্গে সব সময় ভালো ব্যবহার করবেন।
৭. আর একটা কথা কারো সঙ্গে বেশি ফ্রি বা মন খোলা হবেন না।
উপরোক্ত কথা গুলো অবশ্যই মেনে চলবেন।কারণ, ইন্টার্নির মার্ক আপনার ব্যবহার, কাজ শেখার স্পৃহা সহ সব কিছুর উপর নির্ভর করে প্রদান করে। এমনকি আপনার চাকরিও। ভালো কাজ করলে, ভালো ব্যবহার করলে আপনাকে তারা ওই কোম্পানিতেই চাকরির সুযোগ করে দিতে পারে, তাই নিজের ভালোর জন্যই কথা গুলো মেনে চলবেন।



