সন্তানকে অন্তত একটি কারিগরি কোর্স করানোর আহ্বান: শিক্ষা উপমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার:>>>
সন্তানকে অন্তত একটি কারিগরি কোর্স করানোর জন্যে মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আজ চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে অভিভাবকগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটিই আমাদের উত্তরণের একমাত্র পথ বলে বিশ্বাস করি। বিশ্বের যেসকল দেশ অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ, কর্মসংস্থানে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, তার প্রতিটি দেশই এই মাপকাঠিতে পৌঁছেছে কর্মকে ধর্ম জ্ঞান করায়। নাগরিকের শতভাগের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেয়া কোনরাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব নয়,যতক্ষণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন না হয়। কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি থাকলে রাষ্ট্র কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি আনতে সক্ষম হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উচিত হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। যে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী যথাযথ কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করবে। শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নিয়ে অষ্টম কিংবা দশম শ্রেণী পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। নির্দিষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় খাপ খাওয়াতে বেগ পেতে না হয়। নির্দিষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা শেষে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত হওয়াকে নিশ্চিত করতে হবে।
বাকি ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা নিয়মিত করতে পারে। উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র তাদের জন্যেই হওয়া উচিত, যারা গবেষণাধর্মী শিক্ষায় আগ্রহী। শুধুমাত্র এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই যদি বলি, ৪০ হাজারের কাছাকাছি অনার্স, মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষার্থী বহন করার মত বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীতে আর একটিও আছে বলে জানা নেই। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের চিত্রও ভিন্ন। ভারতের নেহরু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাত্র হাজার ছয়েক, যে সংখ্যা আমরা স্বাধীনতার পূর্বেই অতিক্রম করে এসেছি, বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বৃহদাংশ কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করলে অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি নিজের সন্তানের কর্মদক্ষতা দেখলে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ালে জাত যাবে’, এই ধারণা থেকে পরিবারগুলো বের হয়ে আসবে। ধীরে ধীরে কারিগরি শিক্ষাকে আমাদের সমাজে তুলনামূলক হেয় করে দেখার প্রবণতাও ধ্বংস হবে।
কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।



