বেরোবি ভিসি শূন্যতায় ভেঙ্গে পড়ছে চেইন অব কমান্ড

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:১২ পিএম, ২০ মে ২০১৭

বেরোবি, ২০ মে, জিএসনিউজ :>>>>

রংপুরে অবস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য-ট্রেজারারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অভিভাবকহীন ক্যাম্পাসে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত অফিস করছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনটি অনুষদসহ বেশকিছু বিভাগের উপাচার্য নিজেই ডিন ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসায় সেসবপদ খালি হওয়ায় কয়েকটি বিভাগের ফলাফল প্রকাশে ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। ভিসিহীন ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রমে এমন ধীরগতিতে আরো ভয়াবহ সেশনজটের জালে আটকা পড়তে চলছে শিক্ষার্থীরা। সামগ্রিক স্থবিরতায় অনেকটা চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে যেতে বসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবীর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৫ মে। সেদিন রাতেই রাতের অন্ধকারে দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগ মাথায় নিয়ে বাসভবনের পিছনের গেইট দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী। ফলে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, পরিবহনপুলের পরিচালক, তিনটি অনুষদের ডিনসহ একাধিক পদ শূন্য হয়ে পড়ে। গত ১৫ মে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুললে এই শূন্যতায় ক্রমান্বয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা শুরু হয়। বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র স্বাক্ষরের অভাবে জমা পড়তে থাকে। এমনকি অভিভাবকহীন ক্যাম্পাসে জবাবাদহিতার অভাবে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই ঠিকমত অফিস করছেন না।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকতা জানান, প্রশাসনিক ভবনে অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। উপাচার্য নেই, ঠিক এসময় বিদায়ী উপাচার্যের কাছের কয়েকজন কর্মকর্তা ভবনের রুম দখলে মেতে উঠেছে। দু মাস আগে গত ১৬ মার্চ  ইস্যুকৃত চিঠি দেখিয়ে জোর করে চলছে নতুন অফিস দখলের মহোৎসব। একজন কর্মকর্তা জানান, উপাচার্য যাওয়ার আগে ব্যাকডেটে তার কাছের কর্মকর্তাদের কক্ষ বরাদ্ধ দিতে ইস্যু করেছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তাদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচরীদের পাত্তা নেই। অফিস খোলা থাকলেও দু-একজন কর্মচারী ছাড়া কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বসে বসে অলস সময় পার করছে। নতুন ভিসি কে আসছেন এই নিয়ে জটলা বেঁধে চলছে খোশগল্পও।

এদিকে, উপাচার্য নিজেই তিনটি অনুষদের ডিন ও কয়েকটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান থাকায় সেসব পদ শূন্য হওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক বিভাগেরই চুড়ান্ত পরীক্ষা শুরু ও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ আটকে গেছে। ফলে আবারো ভয়াবহ সেশনজটের কবলে ধাবিত হচ্ছে নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক বলেন, উপাচার্য না থাকার কারণে অনেক বিভাগের পরীক্ষা কমিটি অনুমোদন হওয়া সম্ভব নয়, যার ফলে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা হওয়াটা স্বাভাবিক।
এদিকে, সুষ্ঠ তদারকির অভাবে উপাচার্য যাওয়ার কয়েকদিন পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে। এই প্রতিনিধি এ বিষয়ে প্রকৌশলী দপ্তরে খোঁজ নিতে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ফোন দিলে প্রথমে ঠিকাদার কাজ বন্ধের কথা অস্বীকার করলেও পরে বালু সংকটের কারণে কাজ সাময়িক বন্ধ আছে বলে জানান।

অন্যদিকে, ভিসিহীন ক্যাম্পাসে চলছে বহিরাগতদের আনাগোনা। বৃহস্পতিবার ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সিটিটিউটের নির্মাণকাজে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করায় হাতেনাতে রংপুর শহরের আদর্শপাড়ার বাসিন্দা মো: মাহফুজার রহমান বুলেট নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুলেট নিজেকে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য বলে পুলিশকে জানিয়েছে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলি ক্যাম্পের ইনচার্জ এরশাদ আলী। তবে তিনি জানান, কথাবার্তায় আটককৃত ব্যক্তি মানসিক রোগীর মত আচরণ করছে। সে বাবার নাম মোস্তাফিজুর রহমান বললেও মায়ের নাম হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মা বলে দাবি করছে।
চাঁদা দাবির বিষয়ে নিবার্হী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, বহিরাগতের আনাগোনা বাড়ছে। চারদিক থেকে চাপ আসছে। বুলেট নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। সে তিন দিন থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এছাড়াও কয়েকদিন থেকে টিপু বাহিনী নামের আরেকটি বাহিনীও নির্মানকাজের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছে।

সারবিক বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইব্রাহীম কবীরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ছে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ। তবে সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান। আগামী সপ্তাহ নাগাদ নতুন উপাচার্য নিয়োগ হতে পারে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, আগামী সপ্তাহেই নতুন উপাচার্য নিয়োগ হবে বলে জানা যাচ্ছে। তাই নতুন উপাচার্য আসলেই সাময়িক সমস্যা কেটে উঠা সম্ভব হবে।’

 

এবিএন/তপন কুমার রায়/জসিম/ইমরান

আপনার মতামত লিখুন :