ফাইনালের আগেই থেমে গেল মোদির বিজয়রথ!
ভারতের লোকসভা ভোটের বাকি এখনও কয়েক মাস। কিন্তু তার আগে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে থেমে গেল নরেন্দ্র মোদির বিজয়রথ! এই ধাক্কাটা দিলেন কংগ্রেস দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী।
ভারতের পাঁচ রাজ্যের মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, মিজোরামে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান তিনটি রাজ্যেই জয় পেয়েছে কংগ্রেস। বাকি দুই রাজ্যের তেলেঙ্গানায় এগিয়ে রয়েছে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস)। আরেক রাজ্য মিজোরামে এগিয়ে রয়েছে আঞ্চলিক দলগুলোর জোট এমএনএফ। কংগ্রেস সভাপতি পদে নাম ঘোষণার ঠিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই রাহুলের এই বিজয়।
লোকসভার আগে এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে ধরা হয় সেমিফাইনাল। এ দিন কংগ্রেস অবশ্য মিজোরামে ক্ষমতা হারিয়েছে। তেলঙ্গানাতেও চন্দ্রবাবু নায়ডুর সঙ্গে তাদের জোট কাজে এল না। বিধানসভা ভেঙে দিয়ে ভোট এগিয়ে আনার চালেই সেখানে সফল হলেন চন্দ্রশেখর রাও।
কিন্তু নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো হিন্দি-বলয়ের রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। যদিও মাত্র দু’টি আসনের জন্য রাজস্থানে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না। আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মধ্যপ্রদেশে রাত পর্যন্ত ম্যাজিক সংখ্যার নিচেই থেকে গিয়েছে দু’দল। সেখানেও সরকার গড়া নিয়ে নিশ্চিত কংগ্রেস। কারণ, অখিলেশ, মায়াবতীর দল সেখানে আসন পেয়েছে, যা সরকার গড়ার অন্যতম চাবি হয়ে উঠেছে।
সোমবার পর্যন্ত মোদির প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ বড় মুখ করে বলছিলেন, সব রাজ্যেই জিতবে বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে সংসদে গেলেও ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরে তাকে আর দেখা যায়নি। রাতে টুইট করে তেলঙ্গানায় জয়ের জন্য চন্দ্রশেখর রাওকে ধন্যবাদ জানালেও তিন রাজ্যের হার নিয়ে টুঁ শব্দ করেননি বিজেপি সভাপতি। আর সারা দিন চুপ থেকে রাতে টুইট করে মোদি বললেন, হারজিত থাকেই। কংগ্রেসকে অভিনন্দন জানালেন। সেই সঙ্গেই তেলঙ্গানা, মিজোরামের উল্লেখ করে মোদি নিজেদের এমন দুর্দিনেও কংগ্রেসকে তাদের ব্যর্থতার কথা মনে করিয়ে দিলেন!
গত সাড়ে চার বছর ধরে মোদি ও তার সঙ্গীদের মুখে লাগাতার ‘কংগ্রেস-মুক্ত ভারত’ কথাটি শুনছিলেন রাহুল গান্ধী। মোদি ও তার সঙ্গীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও কম সহ্য করতে হয়নি তাকে। তার মধ্যেই নিঃশব্দে নিজের মতো করে দল ও সংগঠন সাজিয়ে মোদির প্রিয় শব্দটিকে উল্টে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেন। মোদি-শাহের এত দিনের দম্ভ চুরমার করে ঊনিশটি রাজ্য থেকে তিনটিকে প্রায় ছিনিয়ে নিলেন। কিন্তু ‘বিজেপি-মুক্ত ভারত’ গড়া রাহুলের দর্শন নয়।
এ নিয়ে তার স্পষ্ট ঘোষনা, ‘লড়াই চলবে, কিন্তু কাউকে দেশ থেকে মুছে ফেলা আমাদের লক্ষ্য নয়। মোদিই আমাকে শিখিয়েছেন, কী করতে নেই।’
প্রসঙ্গত, ভারতে কয়েক দফায় সর্বশেষ গত শুক্রবার ওই পাঁচ রাজ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এ নির্বাচনী ফলাফলকে দেখা হচ্ছে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের সাধারণ নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসেবে। এর ফাইনাল হবে এপ্রিল-মে মাসে লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
সূত্র: আনন্দবাজার



