৬শ’ লক্ষ কোটি সূর্যের সমান আলোর ঝলকানি।

gs news 24gs news 24
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩৯ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার:>>>

পৃথিবীতে ভোর হওয়ার সময় সবচেয়ে উজ্জ্বল মহাজাগতিক বস্তুটির খোঁজ মিলেছে।  বেরিয়ে আসা আলোয় এখনও যা অসম্ভব রকমের ঝকঝকে, ঝলমলে। ১২৮০ কোটি বছর আগের সেই অসম্ভব জোরালো আলো। ৬০০ লক্ষ কোটি সূর্য একসঙ্গে জ্বললে যে পরিমাণ আলো হয়, ততটাই উজ্জ্বলতা ছিল সেই আলোর।

বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর জমাট বাঁধা অন্ধকার ফুঁড়ে তখন সবে ভোর হয়েছে এই পৃথিবী। নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ তো দূরের কথা কোনো গ্যালাক্সিরও জন্ম হয়নি। সেই গ্যালাক্সির যেটা ভ্রূণ, সেই কোয়েজারও তখন সবে চেহারা নিতে শুরু করেছে। যাকে ‘প্রোটো-কোয়েজার’ও বলা যায়। এরও ১০০ কোটি বছর আগে হয়েছে সেই বিগ ব্যাং। কোয়েজারটির নাম দেয়া হয়েছে, ‘J043947.08+163415.7’।

আদিমতম মহাবিশ্বের সেই সৃষ্টি-প্রক্রিয়া দেখল নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এই প্রথম। নাসা জানিয়েছে, বিগ ব্যাংয়ের পর সুদূরতম অতীতের কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে এতটা উজ্জ্বল ভাবে এর আগে দেখা যায়নি। বিগ ব্যাংয়ের সামান্য সময় পরেই সদ্য জন্মানো সেই কোয়েজার, যা কিনা রয়েছে আমাদের থেকে ১২৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে, কীভাবে তাকে এতটা উজ্জ্বল দেখতে পেল হাবল স্পেস টেলিস্কোপ?

নাসা জানিয়েছে, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা বড় একটি গ্যালাক্সি হঠাৎই সামনে এসে পড়েছিল হাবল টেলিস্কোপের। আর তাতেই কেল্লা ফতে! ওই বড় গ্যালাক্সিটাই তখন হাবলের সামনে হয়ে পড়ে একটি আতশ কাচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস।

ওই কোয়েজারটি উজ্জ্বলভাবে দেখার জন্য যে গ্যালাক্সিটি আতশ কাচের মতো কাজ করেছে, সেই গ্যালাক্সিটি ছিল পৃথিবীর কাছাকাছি। তা না হলে ওই কোয়েজারটিকে অতটা উজ্জ্বলভাবে দেখা সম্ভব হতো না। টানা ২০ বছর ওই কোয়েজারটির ওপর নজর রেখে এসেছেন গবেষকরা।

মূল গবেষক টাকসনের আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিয়াওহুই ফ্যান তার গবেষণাপত্রে লিখেছেন, মহাবিশ্বের যতটা অংশ এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান, তার চেয়ে উজ্জ্বল কোনো কোয়েজার আর দেখা যাবে বলে আশাও করি না।

আপনার মতামত লিখুন :