ব্রিটেনে আবার জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা, ৫০০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২৮ এএম, ২৪ মে ২০১৭
Armed police officers stand outside a residential property near to where a man was arrested in the Chorlton area of Manchester, Britain May 23, 2017. REUTERS/Stefan Wermuth

অনলাইন ডেস্ক:>>>>

ম্যানচেস্টারে সোমবার রাতের হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আরও বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আরও বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা ‘তীব্র’ থেকে ‘সংকটপূর্ণ’ অবস্থায় পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন। সম্ভাব্য হামলা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

২১ মে  রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী আরিয়ানা গ্র্যান্ডের কনসার্টে চালানো ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ২২ জন। ওই ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা ৫৯ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেনে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণা স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া সবরাজনৈতিক দল। তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে সারাবিশ্বে।

হামলার পর ব্রিটিশ সরকারের সংকট প্রতিহত কমিটির এক জরুরি বৈঠক করেন মে। বৈঠক শেষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ম্যানচেস্টারের ঘটনায় চলমান তদন্তের ভিত্তিতে আমরা বুঝেছি, ব্রিটেনে এখন হামলার আশঙ্কা শুধু তীব্র নয়, সংকটপূর্ণ অবস্থায়পৌঁছেছে।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো স্পষ্ট করে বলেন, আরেকটি হামলার আশঙ্কা এখন শুধু তীব্র নয় বরং তা অত্যাসন্ন।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর সারাদিনের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের হামলা চালানোর জন্য আরো বহু ব্যক্তি প্রস্তুতি নিয়েছে । তারা প্রত্যেকে এককভাবে আলাদা আলাদা জায়গায় হামলার চেষ্টা করবে। মে দাবি করেন সাধারণ মানুষকে শুধু শুধু আতঙ্কিত করার ইচ্ছা তারসরকারের নেই ।

ম্যানচেস্টারের সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী সালমান আবেদির বাবা-মা ছিলেন লিবীয় শরণার্থী। সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির রোষানল থেকে বাঁচতে লিবিয়া ছেড়ে পরিবারকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসেন সালমানের বাবা রামাদান আবেদি। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব দাবি করেছে। সংবাদমাধ্যম মিরর সালমানের বন্ধু-প্রতিবেশিদের সূত্রে জানাচ্ছে, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া সালমান কৌশরে ছিলেন এক ফুটবল-উন্মাদ তরুণ। ভিডিও গেরেমও আসক্তি ছিল তার।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তের ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের পুলিশ এখনও আশাবাদী। পুলিশের পক্ষ থেকে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কারও কাছে ওই হামলার ফুটেজ থাকলে তারা যেন তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরবরাহ করেন।

ম্যানচেস্টারে জোড়া বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে আইএস। জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মুনাফাভিত্তিক ওয়েবসাইট সাইট ইন্টিলিজেন্স জঙ্গিদের দায় স্বীকারের খবর জানিয়েছে। তবে আইএসের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হলেও হামলায় জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নয় ব্রিটিশ পুলিশ।

এদিকে সংবাদমাধ্যম মিরর সন্দেহভাজন হামলাকারী সালমানের বন্ধু-প্রতিবেশিদের সূত্রে জানাচ্ছে, কৌশরে ব্রিটিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্ধভক্ত ছিল সামলান। তারমধ্যে ভিডিও গেম খেলার নেশাও ছিল প্রবল।

আপনার মতামত লিখুন :