আপন ঠিকানায় ফিরতে চান রোহিঙ্গারা
স্টাফ রির্পোটার :>>>>
বাংলাদেশে ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এখনও থামেনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আছে প্রায় ৪ লাখ। তবে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা এ দেশের বোঝা হয়ে থাকতে চান না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে মঙ্গলবার (২০ জুন) পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিবসটি পালন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি মানুষ শরণার্থী। এটি বিশ্বের ইতিহাসে শরণার্থী সংখ্যার সর্বোচ্চ রেকর্ড। মূলত যুদ্ধ, জাতিগত সন্ত্রাসই সাম্প্রতিক সময়ে শরণার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ।
দীর্ঘ ২ যুগ চেষ্টা করেও বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানো সম্ভব হয়নি। আবার মিয়ানমারে জনসংখ্যা জরিপে রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা মানতে পারছে না বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে গিয়ে বারবারই আন্তর্জাতিক চক্রের বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, দেশকে একটি আন্তর্জাতিক চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থানীয়রাও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চান। কারণ ওই চক্রটি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ জিইয়ে রেখেছে।
এ প্রসঙ্গে কুতুপালং ক্যাম্পের পাশে অবস্থানরত স্থানীয় ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠন নিজ স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তাদের সুযোগ-সুবিধার কারণে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।’
কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যবাসন কমিটি সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াতেই আটকে আছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন। দীর্ঘ সময় ধরে নানা কারণে বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরার বিষয়টি ঝুলে আছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় দু’মাসের মধ্যে দুই হাজার ৪১৫ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো দরকার। তা নাহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান কোনও দিনও হবে না। বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। আমাদের যে ঐতিহাসিক ভিত্তি, ঐতিহাসিক সম্পর্ক সেসব বিষয়গুলো নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’



