চীন-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : ভারতীয় সেনাপ্রধান

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৯ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার:>>>

৭০ দিন ডোকা লা সীমান্তে চীনের সেনার মুখোমুখি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। অবশেষে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি আবার হতে পারে। তা মোকাবিলায় তৈরি ভারত।

 

বুধবার সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানিয়েছেন, উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’‌টি যুদ্ধক্ষেত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তার কথায়, ‘‌উত্তর প্রান্তের কথা যদি বলেন, তাহলে বলব পেশির আস্ফালন শুরু হয়েছে। আলাদা আলাদা করে ধীরে ধীরে এলাকা দখলের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের শক্তির পরীক্ষা করে নিয়েছি। কিছু বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোর নিতে পারে। আমরা প্রস্তুত।’‌
তিনি আরো বলেন, উত্তর প্রান্তে ভারত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে তার সুযোগ নিয়ে পশ্চিমপ্রান্তে কেউ হামলা চালাতে পারে। তাই দু’‌টি যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

 

সাংবাদিক হত্যায় মোদি নীরব, সমালোচনায় বিজেপি
বিজেপি এমপি প্রহ্লাদ জোশীর দায়ের করা মানহানির মামলায় যে দিন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ভারতের প্রখ্যাত নারী সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ, বিজেপির তথ্য-প্রযুক্তি মোর্চার প্রধান অমিত মালব্য টুইট করেছিলেন, ‘‘আশা করি, অন্য সাংবাদিকেরাও মনে রাখবেন।’’

 

গত রাতে গৌরীর খুনের পরে ভারতের অনেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অবশ্য ঘটনার নিন্দা করেছেন। চাপের মুখে বুধভার সকালে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু চুপ। এ দিকে নরেন্দ্র মোদি যে মুষ্টিমেয় কয়েক জনকে টুইটারে ‘ফলো’ করেন তাদেরই অন্যতম, ব্যবসায়ী নিখিল দাধিচ রীতিমতো অশালীন ভাষায় গৌরী-হত্যাকে সমর্থন করে টুইট করেছেন। নিজেকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ বলেই দাবি করেন নিখিল। তার এই টুইটের পরে দাবি উঠেছে, পত্রপাঠ এই ব্যবসায়ীকে ‘আনফলো’ করুন মোদি। রাতের দিকে আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ টুইট করেছেন, ‘কারো হত্যায় উল্লাস প্রকাশ করাটা লজ্জাজনক।’

 

অনেকেরই মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নাম উঠে আসায় এ ভাবেই দূরত্ব বাড়ানোর কাজটি করতে হয়েছে রবিশঙ্করকে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এক জন দক্ষ হিন্দু নেতা। তার শব্দের দু’টি অর্থ থাকে। একটি নিজেদের ভিত্তির জন্য, অন্যটি বাকি দুনিয়ার জন্য। তিনি এমনিতে কিছু বলেন না। অনেক ঘটনা ঘটে গেলে তার পর ভাবেন, কিছু বলে দিই।’’ কংগ্রেস সহ-সভাপতির অভিযোগ, এখন বিজেপি-আরএসএসের আদর্শের বিরুদ্ধে যিনি কথা বলবেন, তার উপরেই চাপ বাড়বে, আক্রমণ হবে, এমনকী হত্যাও করা হবে।

 

রাহুলের কথার জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী বলেন, ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য। এ তো রাজ্য সরকারের বিষয়। আর প্রধানমন্ত্রী এখন বিদেশে।’’ যদিও বিদেশে থেকেও ক’দিন আগে এক তৃণমূল এমপির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে টুইট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির অনেক নেতাই দাবি এখন দাবি তুলেছেন, গৌরী-হত্যার তদন্তভার সিবিআইকে দেয়া হোক। যাতে সেটি সরাসরি কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে হয়। গৌরীর ভাই ইন্দ্রজিৎ একই দাবি তোলায় সুবিধে হয়েছে বিজেপির।
এর আগে সিপিআই নেতা গোবিন্দ পানসারে, যুক্তিবাদী নরেন্দ্র দাভোলকর ও এম এম কলবুর্গীর হত্যার কিনারাও হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে গৌরী-হত্যার সঙ্গে বাকি তিন খুনের সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

 

কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির দাবি, আগের তিন হত্যার সঙ্গে যোগ রয়েছে ‘সনাতন সংস্থা’ নামে এক গেরুয়া শিবিরের। ঘটনাচক্রে, বুধবার গৌরী-হত্যার নিন্দা করেছে সনাতন সংস্থা। কিন্তু একই সঙ্গে গৌরীর বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন তাদের মুখপাত্র চেতন রাজনস।

 

কংগ্রেসের দাবি, মানহানির মামলায় গৌরীর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সময়েই বিজেপির বিবৃতি থেকে বোঝা গিয়েছিল, তারা কী রকম প্রতিহিংসাপরায়ণ। বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন— কিছু নেতার দুর্নীতি ফাঁস করতে চাইছিলেন গৌরী। সেই জন্যই তাকে খুন হতে হল না তো? কেন্দ্রের শাসক দলের দলের কটাক্ষ, কলবুর্গী খুন হয়েছিলেন কংগ্রেস-শাসিত কর্নাটকেই। দু’বছরেও কেন হত্যার কিনারা হল না? যার উত্তরে কংগ্রেসের আবার দাবি, সনাতন সংস্থার গড় মহারাষ্ট্রে। সেখানকার বিজেপি-শাসিত সরকার ঢিলেঢালা বলেই এগোচ্ছে না তদন্ত।

আপনার মতামত লিখুন :