আইডিবির অফিস হচ্ছে ঢাকায়
স্টাফ রিপোর্টার:>>>
ছয় বছর ধরে চলতে থাকা টানাপারেনের পরে অবশেষে একটি আঞ্চলিক অফিস খোলা অনুমোদিত জেডদাভিতিক সংস্থা ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। রাজধানী আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবনের ১০ তলায় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক অফিস। বাংলাদেশ পাশাপাশি মালদ্বীপ, চীন এবং ভারতে ঋণপ্রক্রিয়ার নজরদারি করা ঢাকা অফিস থেকে। চীন ও ভারত আইডিবির সদস্য দেশ হলেও এ দুই দেশ সংস্থা ঋণ লভ্যাংশ চালু আছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী রাডিসন হোটেল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইডিবির আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করবেন। সঙ্গে কোম্পানীর প্রেসিডেন্ট বন্দর বিন মোহাম্মদ বিন হামজা আসাদ আল আরাফার অফিসে চালু হলে বাংলাদেশ সঙ্গে আইডিবি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদন থেকে শুরু করে অর্থ ছাড় এখন পর্যন্ত যে সময় অপচয় হয়, এটা কম হবে বলে আশাবাদী কর্মকর্তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানী আগারগাঁও আইডিবি ভবনে এখন ‘ফিল্ড অফিস’ এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইডিবি। যেখানে একজন পরিচালক এবং দুজন কর্মকর্তা কাজ করছেন এই অফিসে ন্যূনতম কোন ক্ষমতা নেই সমস্ত সিদ্ধান্ত আসে আইডিবি সদর দপ্তর থেকে ঢাকায় আইডিবির অফিসে থাকার কারণে বাংলাদেশ সরকার ও আইডিবির দুই পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়। ঋণ অনুমোদন, দরপত্র মূল্যায়ন এবং অনুমোদন এবং অর্থ ছাড় সব কিছুই হয় জেডদা থেকে ফলে নির্ধারিত সময় কোন প্রকল্প কাজ শেষ না অনেক সময় দূষিত হচ্ছে এই প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ একটি অফিস খুলুন ২০১২ সালে সরকার আবেদনকারী আইডিবি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আবেদনকারীর সরকার বেশ কিছু সুবিধা চায় আইডিবি প্রস্তাবনাটি বলা হয়, অফিস চালু করার পূর্বানুক্রমিক সুবিধা প্রদান করা আইডিবিকে; যেটি দেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংক এবং এডিবি যেহেতু বাংলাদেশের নিজস্ব আইনে সরকার বা কোনো ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে সময় কাউকে মামলা করা হবে না এ ছাড়া সংস্থাটির আঞ্চলিক প্রধানের জন্য আমদানি করা গাড়ি, অন্য কর্মকর্তাদের আয়কর মওকুফ, কম্পিউটার এবং অন্যান্য উপকরণ আমদানিতে শুল্কমুক্তসহ আরও বেশ কিছু সুবিধা চায় প্রতিষ্ঠানটি। এই সুবিধা দেওয়া না দেওয়া ছয় বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান টানাপাড়েন। শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে আইডিবি
জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম কালের কণ্ঠে বলেন, ‘আইডিবি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অফিস চালু করার বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর সেটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সংস্থাটি যে ধরনের সুবিধা চায় সেগুলি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আলোচনা করা হয়েছে। তাদের তাদের সুবিধা দেওয়া হবে। ‘
ইআরডি সূত্র বলছে, আইডিবি ইতিমধ্যে ঢাকা অফিসের জন্য আঞ্চলিক ম্যানেজার নিয়োগ করেছে। মালয়েশিয়ার নাগরিক নাসিস সোলায়মান, যিনি এখন জেদ্দায় আইডিবির সদর দপ্তরে কাজ করছেন, তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক ম্যানেজার হিসাবে। আগামী মাসে তিনি অফিস শুরু করতে চান ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, আইডিবির যেসব নিয়োগ করা হবে 80 শতাংশের উপরে তাদের নিয়োগ করা হবে বাংলাদেশী নাগরিকদের। বাকি নিয়োগ করা হবে বিদেশী নাগরিক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আইডিবি প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানায়, ৮০ শতাংশের উপরে নিয়োগের জন্য যাতে বাংলাদেশী নাগরিকদের দেওয়া হয়। ইআরডি কর্মকর্তারা বলেছে ইআরডি প্রেসিডেন্ট অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস দিয়েছে।
এডিবির নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য দুটি একর জমি লিজ দেওয়া সরকার। আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে উল্টো দিকে এই ভবন নির্মাণের জায়গা বরাদ্দ রাখা আছে। ভবনটি ২০ তলায় এখন চলমান ভবনের নকশা নির্মাণ কাজ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানান, ৮ সেপ্টেম্বর তিন দিন ঢাকা সফরে আসেন আইডিবির প্রেসিডেন্ট সফরের সময় মায়ানমার থেকে প্রাণভিত্তে পালিয়ে গেলেন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ আশ্রয় নেওয়ার জন্য। একই সাথে রোহিঙ্গাদের জন্য সহযোগিতার ঘোষণাও হতে পারে-এমন উদ্ভট মিলছে ইআরডি কর্মকর্তারা থেকে আইডিবি অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি প্রকল্প দেখতে আসাদ আল আরাফাত উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংক চার হাজার কোটি টাকার এবং এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা ঘোষণা করেছে।
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, আইডিবির নিজস্ব কর্মকর্তা আয়কর মুক্ত থাকবেন। তবে যারা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রবেশ, তারা এই সুবিধা পাবেন না এছাড়া আইডিবি কর্মকর্তাদের গাড়ি আমদানি ও অন্যান্য সামগ্রী আমদানির সময় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে বলে কর্মকর্তারা জানান। তবে গত আগস্টে বাংলাদেশ আসার প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বিষয়ে আইডিবি বা সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতার ঘোষণা না দেওয়ায় বিস্মিত সরকার একাধিক নীতি-নির্ধারক। তবে আইডিবি প্রেসিডেন্টের সফরে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় অংশ নেবে বলে জানান কর্মকর্তারা। ইআরডি সূত্র বলছে, তেল আমদানিসহ বিদ্যুৎ ও সড়ক খাতে আইডিবি এখন প্রায় ২0 টি প্রকল্প চালু রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আইডিবি প্রায় ১০০ কোটি ডলারের মতো ঋণ প্রদান করে বাংলাদেশকে



