মেহেরপুরের হিমসাগর আম রপ্তানী হবে ইউরোপের ৮ দেশে
মেহেরপুর প্রতিনিধীঃ>>>>
স্বাদে জুড়ি নেই মেহেরপুরের হিমসাগর আমের। রাজশাহীর আমকেও নাকি হার মানাচ্ছে মেহেরপুরের হিমসাগর। তাই জেলার ৭০ শতাংশ বাগানেই চাষ হয়েছে এ আম।
দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সুনাম, চাহিদা ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপেও। তাই আমচাষিরাও বালাইমুক্ত নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে বাগানে বাগানে ব্যবহার করছেন ব্যাগিং পদ্ধতি। কৃষি বিভাগ ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনও আমচাষিদের সহযোগিতা করছে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে।
এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে রপ্তানি হতে চলেছে মেহেরপুরের আম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ২২শ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই হিমসাগর। ইউরোপে আম রপ্তানির জন্য জেলার ৬৫ জন আমচাষির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এসব চাষি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আমের চাষ করেছেন। মেহেরপুর থেকে কীটনাশকমুক্ত আমে গতবছর প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হওয়ায় এ বছর আমচাষিদের মধ্যে অন্য ধরনের উৎসাহ কাজ করছে।
চাহিদা বেড়ে চলতি বছর ৩শ মেট্রিকটন আম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যাবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
আন্তর্জাতিক বাজারে হিমসাগর আম ছড়িয়ে দিতে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৫ সালে উদ্যোগ নেয়। ওই বছরে জেলার ১৫টি বাগান নির্বাচন করা হয়। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সেসব বাগান থেকে প্রথমবারের মতো ৪৫ হাজার আম সংগ্রহ করে। চুক্তিভিত্তিক আমচাষিদের নির্ধারিত বাগানগুলোতে কার্বন ব্যাগ পরিয়ে রাখা হয়েছে। জেলা থেকে আম রপ্তানি নিয়ে কাজ করছে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক সংস্থা সলিডারিডেড নেটওয়ার্ক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মফিজুর রহমান বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আটটি দেশে যাবে মেহেরপুরের আম।
আগামী ২০ মে থেকে ওই আম সংগ্রহ শুরু হবে।
সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের আমচাষি শাহীনুর রহমান বলেন, গতবছর আমি প্রথম ইউরোপে আম পাঠিয়েছিলাম। এবছর ৩০ বিঘা জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। বাগানে ৩শটি হিমসাগর আমের গাছ রয়েছে। এসব গাছের আম বাছাই করে একধরনের কার্বন ব্যাগ পরিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
‘আমে আঁটি আসার পর থেকেই বাছাইকরা আমে ওই ব্যাগ পরানো হয়েছে। ওই ব্যাগ পরানোর ফলে রোদ, বৃষ্টি এমনকি পোকামাকড়ও ক্ষতি করতে পারবে না।’



