বাজার হিসেবে ভারতকে চীনের জায়গায় দেখছে অ্যাপল
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:>>>>>
অ্যাপল কি চীন নির্ভরশীলতা কমাতে যাচ্ছে? ভারতকে ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির এখন যত পরিকল্পনা। শুধু ডিভাইস বিক্রি বিবেচনায় নয়, উত্পাদন ও রফতানির জন্যও দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক বলেন, অ্যাপলের জন্য পরবর্তী চীন হতে যাচ্ছে ভারত এবং কেন, সে বিষয়ে ব্যাখা তুলে ধরেছেন। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
বৈশ্বিক বাজারে অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আইফোন বিক্রিতে শ্লথ গতি বিরাজ করছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় ব্যবসা বিভাগ ইতিবাচক ফলাফল দিচ্ছে। ব্যবসা সম্প্রসারণে তাই দেশটিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
শুধু এপ্রিল-জুন প্রান্তিকেই ভারতে আইওএস অ্যাপ অ্যাকসেলারেটর কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি ডিভাইস সংযোজন কার্যক্রম শুরু করেছে অ্যাপল। বেঙ্গালুরুতে প্রতিষ্ঠানটির উত্পাদন কারখানা পরিচালনা করছে অ্যাপলের চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতা উইস্ট্রন করপোরেশন। ভারতের বাজারে বিক্রয় চ্যানেল উন্নত করা এবং বিপণন কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে এসব বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে অ্যাপল।
টিম কুক বলেন, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আমরা ভারতে আইফোন এসই উত্পাদন শুরু করেছি। দেশটিতে আমাদের উত্পাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। ভারতে ডিভাইস উত্পাদন শুরু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত ডিভাইস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাজারটিতে সামগ্রিক ব্যবসা কার্যক্রম জোরদারে আমরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করছি।
তিনি বলেন, ভারত প্রযুক্তি খাতের ক্রমবর্ধমান বাজার হিসেবে সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটিতে কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের সঙ্গে ভারতের বাজারের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু পার্থক্য হলো, চীনের বাজারে কয়েক বছর আগে যে পরিস্থিতি ছিল তা এখন ভারতের বাজারে বিদ্যমান। চীনের প্রযুক্তি বাজার অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভারতের বাজারে ডিভাইস ব্যবসা সম্প্রসারণের এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ উত্পাদন কারখানা স্থাপন ও সংযোজন বিষয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে অ্যাপল। শুধু সংযোজন নয়, এখান থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ আইফোন উত্পাদন শুরু হলে ডিভাইস বাজারে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ উত্পাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি নির্ভর করছে দেশটির সরকারের ওপর। কারণ এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কর অব্যাহতিসহ বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা চাওয়া হয়েছে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শুধু অ্যাপলকে নয়, সামগ্রিকভাবে সব স্মার্টফোন নির্মাতাদের কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়ার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কথাও ভাবছে দেশটির সরকার। সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি এ কারণেই কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ভারত থেকে উত্পাদিত ডিভাইস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর তা বিশ্বের অন্য বাজারগুলোতে রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাপলের। এছাড়া দেশটি থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে আইফোন উত্পাদন শুরু হলে দাম কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে আইফোন বিক্রি বাড়বে।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, বৈশ্বিক বাজারে আইফোন বিক্রিতে শ্লথ প্রবৃদ্ধি হলেও ভারতে এ ডিভাইস বিক্রি বাড়ছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির জন্য এটা উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। দেশটির ক্রমবর্ধমান ডিভাইস বাজারে এখনো অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে অ্যাপলের জন্য। দেশটির বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে আইফোন উত্পাদন ও সংযোজন ব্যবসা জোরদারে অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। বাজারটিতে লাখ লাখ হাই-এন্ড ডিভাইস বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।
অ্যাপল সাধারণত চীন থেকে আইফোন সংযোজনের কাজ করে থাকে। তাইওয়ানভিত্তিক ফক্সকন অ্যাপলের চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি চীনে স্থাপিত কারখানা থেকে বেশিরভাগ আইফোন উত্পাদন করে। ভারতেও উত্পাদন কারখানা রয়েছে ফক্সকনের। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতেও ফক্সকনের কারখানা থেকে আইফোন উত্পাদন ও সংযোজন করবে অ্যাপল।



