আরব-আমিরাতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে শতাধিক বাংলাদেশী !

জিএস নিউজ ডেস্কজিএস নিউজ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৪৯ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০১৭

রিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটানো জন্য আরব আমিরাতে এসে এখন নিজের মুখে হাসি ম্লান করে কোন মতে দেশে ফেরার আশায় বুক বেঁধে আছেন “ফিউচার ডেকোর কোম্পানি”তে কর্মরত ১ শ মতো বাংলাদেশী শ্রমিক।

দেশটির রাজধানী আবুধাবী শিল্পনগরী মোসাফফাহ ৩৭ নাম্বারে পানি-বিদ্যুৎ ছাড়া মানবেতর জীবন-যাপন করেছে এইসব রেমিটেন্সের কারিগরেরা। তাদের অভিযোগ বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের ক্যাম্পে কয়দিন আগে সামান্য পানি আর খাবার দিয়ে আর কোন খবর নিচ্ছেন না। আর এই দিকে দূতাবাস বলছে,’ সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তাদের নিয়মিত খবরা খবর নিচ্ছেন। ‘

৩শ’র অধিক শ্রমিক নিয়ে এই কোম্পানীটি ভাল ভাবে চলে আসলেও হঠাৎ দুই বছর আগে পালিয়ে যায় এই “ফিউচার ডেকোর কোম্পানিটি”। তার মাঝে বাংলাদেশি শ্রমিক ছিলেন ১শতাধিক। তাদের মালিক পালিয়ে যাওয়ার পর তারা স্থানীয় আদালতে মামলা করেছে তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য। রাস্তায় চলাচলের জন্য আদালত থেকে একটি ছাড় পত্র দিলেও বাহিরে কাজ করার অনুমতি পায়নি তারা। এমনকি  খাদ্যের অভাবে একজন শ্রমিক মারা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এখানে ।

একদিকে নেই কাজ কর্ম অন্যদিকে বাসস্থানে নেই পানি আর বিদ্যুৎ সংযোগ,দির্ঘদিন বকেয়া বিলের দায়ে বিচ্ছিন্ন করে আবুধাবী ওয়াটার ইলেক্ট্রেসিটি বিতরণ বিভাগ। ফলে অন্ধকার  ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এই সব প্রবাসীরা। দূতাবাসের বিরুদ্ধে তাদের অনেক অভিযোগ অভিযোগে তারা বলেন আমাদের খোজখবর দূতাবাস রাখছেন না বর্তমানে ১০/১২ দিন ধরে আমরা অন্ধকারে পরে আছি দূতাবাসে গেলে তারা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন শুধু।

কারখানার শ্রমিকেরা এই প্রতিবেদককে বলেন,  ‘আমাদের এক সহকর্মী ভারি কাজ করতে না পারায় ময়লার ড্রাম থেকে স্ক্রাপ খুডিয়ে এনে তা বিক্রি করার কাজ বেছে নিয়েছিলেন । সর্বশেষ তাও এইদেশের আইনে নিষিদ্ধ হওয়াতে বন্ধ করে দিতে হল। এর কিছুদিন পর তিনি অনাহারে মৃত্যু বরণ করেন।’

এদিকে, দূতাবাস বলছে ভিন্ন কথা।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য গেলে দূতাবাসের প্রথম সচিব লেব্যার ড. মোহাম্মদ মোকছেদ আলী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের দূতাবাস এই কোম্পানীর শ্রমিকদের খবরা খবর নিচ্ছেন। তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে এই বিষিয়টি জানানো হয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, তাদেরকে আমরা বলেছি আপনাদের খাদ্যর সমস্যা হলে আমাদের কাছে আসুন, আমরা দেব। দেড় বছর আগেও আমরা তাদের বিদ্যুৎ আর পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছি হঠাত অল্প কিছুদিন আগে বকেয়া বিলের কারণে আবার লাইন কেটে দেয়া হয়।আমরা কাজ করছি সেটার দ্রুত সুরাহা করার জন্য।এবং আগামী দুই’এক মাসের মধ্যে সব কিছুর সমধান করে তাদের দেশে পাঠানো হবে বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের দাবীকে অগাহ্য করছিনা আমরা তবে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা যে সেখানে ভয়াবহ  দুরাবস্থার মধ্যে আছেন তা অস্বীকার করে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারোই । তাই সচেতন মহলের প্রত্যাশা , অতি দ্রুতই দূতাবাস ও সরকার আন্তরিক হবেন এই সব রেমিটেন্স কারিগরদের ব্যাপারে।

আপনার মতামত লিখুন :