বিশ্বজুড়ে হ্যাকারদের সাইবার হামলা বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত?
জিএস নিউজ ডেস্কঃ>>>>
প্রায় গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিলো হ্যাকার চক্র। তাদের সাইবার হামলার শিকার হলো ৯৯টি দেশ। আক্রান্ত দেশের স্বাস্থ্য ও টেলিকম খাতসহ ব্যবসায়িক অঙ্গগুলোতে আক্রমণের ফলে সেবা বিঘ্নিত হয়। তবে বড় ধরনের আক্রমণের শিকার হয়নি বাংলাদেশ।
সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতগুলো আক্রমণের হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই যাত্রায় রক্ষা পেলেও ডিজিটাল বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখা, আপডেট সফটওয়্যার ব্যবহার করা ও পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সিস্টেম পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা দরকার এবং সর্বাপরি বাড়াতে হবে সচেতনতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামলা হলেও বাংলাদেশের জাতীয় ডেটা সেন্টারসহ সরকারি ওয়েবসাইটগুলো নিরাপদে রয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার।
ডেটা সেন্টারের পরিচালক তারেক বরকতউল্লাহ জিএস নিউজকে বলেন, আক্রান্ত দেশগুলোতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে সাইবার হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারি সেবায় অপারেটিং সিস্টেমে উইন্ডোজের পরিবর্তে ইউনিক লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের পরিচালক বলেন, উইন্ডোজ ইউজার যারা তারা আপডেট বন্ধ ও পাইরেটেড সিস্টেম ব্যবহার করেছিল।
ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের পরিচালক তারেক বরকতউল্লাহ বলেন, গোটা বিশ্বে আক্রমণে ব্যবহার করা এ ধরনের ম্যালওয়ার (ভাইরাস) থেকে রক্ষা পেতে এবং সক্ষমতা তৈরি করতে লিনাক্সের দিকে যেতে হবে। লিনাক্স ব্যবহারে আমাদের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। আর উইন্ডোজ ব্যবহার করলে আপডেট অপশন চালু রাখতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ জিএস নিউজকে বলেন, প্রতিনিয়ত সাইবার আক্রমণ আসবে। হামলা মোকাবেলায় আমাদের শিখতে হবে, প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সাইবার আক্রমণ রোধে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সিস্টেম যেন আক্রমণ না হয় সেজন্য সচেতন থাকতে হবে।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, একজনের কম্পিউটার অন্যজনকে ব্যবহার করতে না দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে বলেও মনে করেন বুয়েটের।



