বাড়ি না ছাড়ার ঘোষণা মওদুদের, ছাড়তেই হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
স্টফ রির্পোটারঃ>>>>
রাজধানীর গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বর প্লটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের দখলে থাকা বাড়িটি নিয়ে রায় পুর্নবিবেচনার আবেদন রোববার (৪ জুন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এই রায় দেন। তবে সে রায়ের পর শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সরকার পক্ষ বলছে বাড়িটি এখন ছাড়তেই হবে মওদুদ আহমদকে। আর মওদুদ বলছেন, গুলশানের বাড়িটি তিনি ছাড়বেন না।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গনেই ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বাড়িটি তিনি ছাড়ছেন না।
আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বলেন, আদালত কোথাও বলেননি বাড়িটি সরকারের। আর সরকারের পক্ষ থেকেও কোনও শর্ত দেওয়া হয়নি, ফলে বাড়িটি ছাড়ার প্রশ্ন ওঠে না।
মওদুদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার বোঝাপড়া হবে এর মালিক অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের সঙ্গে। সরকারের সঙ্গে নয়।
এদিকে রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মওদুদ আহমদকে অবশ্যই বাড়িটি ছাড়তে হবে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মওদুদ আহমদ বাড়ি না ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করেন মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘তার মতো রাজনৈতিক নেতার এমন কথা বলা রীতিমতো ধৃষ্ঠতা।’
মাহবুবে আলম আরও বলেন, বাড়িটি কারো অবৈধ দখলে থাকলে তা অবশ্যই সরকার দেখবে ও দখলমুক্ত করবে।
গুলশানের এই বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ছেড়ে চলে যান এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।
এরপর ১৯৭৩ সালের ০২ আগস্ট মওদুদ আহমদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুর আহমদের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন।
পরে এক আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট ওই বাড়িটি মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন করার রায় দেন হাইকোর্ট।
রাজউক এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে ২০১১ সালের ০৩ ফেব্রুয়ারি।



