“স্বপ্ন সহচরী” ও “ইচ্ছের হিমালয়” —কবি মোহাম্মদ ছদর উদ্দিনের নান্দনিক কাব্য
“স্বপ্ন সহচরী”
কবি মোহাম্মদ ছদর উদ্দিনের ‘স্বপ্ন সহচরী’ দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। অমর একুশে বইমেলা, ২০১৮ উপলক্ষে গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ঢাকার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শব্দগ্রন্থ । কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায় জন্মগ্রহণকারী এই কবি একটি অত্যুজ্জল পারিবারিক ও মুসলিম পরিবারের সন্তান। কবি প্রায় পাঁছ বছর ধরে লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন। একজন সাহিত্য সংগঠক হিসেবে নিয়মিত বই পড়া ও সাহিত্যের চিন্তা ধারায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পছন্দ করেন। শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে মোহাম্মদ ছদর উদ্দিন একটি পরিচিত নাম। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির হাতে রয়েছে চারশতের অধিক। যা তিনি ধাপে ধাপে প্রকাশের ইচ্ছা রাখেন। লিখেছেন অনেক ছোট গল্পও , যা এখনো অপ্রকাশিত।
‘স্বপ্ন সহচরী’ কাব্যে কবির ৪২টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
লেখকের দৃষ্টির সীমানায় সময় নদীর স্রোতে বিরহও রঙ বদলেছে বার বার। দুঃখ-মেঘে জমানো খুনসুটি ও কষ্টসমুদ্রের নানান অনুষঙ্গ কাব্যরসের বিচ্ছুরণে মোহাম্মদ ছদর উদ্দিন শৈল্পিক উচ্চারণের সাহস দেখিয়েছেন।” কাব্যটির বিষয়সম্ভার সম্পর্কে এই মূল্যায়নের পর আর কিছু বলার থাকেনা। আমি কেবল কবির কাব্যশৈলীর দিকটি নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করবো।
কাব্যটির শৈলীগত উজ্জ্বল দিকটি হচ্ছে এর অনাস্বাদিতপূর্ব চিত্রময়তা। চিত্রকল্প ছাড়া তাঁর কবিতার স্তবক নেই বললেই চলে, এমনকি পংক্তিও তেমনটা নেই। চিত্রকল্পই যে কবিতা এবং সুচারু চিত্রকল্পের ব্যাপক ব্যবহার কবিতাকে কী মাত্রায় ভাবসম্পদে ধনী করে তুলতে পারে তা তাঁর কবিতাগুলো পাঠ করলেই বোঝা যাবে। জীবন, নিসর্গ,প্রেম , বিরহ প্রভৃতি ক্ষেত্রের অসংখ্য অনুষঙ্গ সাজিয়ে তিনি এই কাব্যটিতে নানা হৃদয়জ ছবি এঁকেছেন। এসবের বর্ণনা দিতে গেলে পৃথক একটি গ্রন্থ হয়ে যাবে। চিত্রকল্পগুলো কেবল কবির হৃদয়ে লালিত আবেগগুলোরই প্রতিচ্ছবি নয়, তাঁর তীক্ষ্ন ধী-শক্তিরও পরিচয়বহ। তাঁর চিত্রকল্প গঠনে উপমা-উৎপ্রেক্ষা বা কোন অলঙ্কারের বাহুল্য নেই, শব্দ-বিশেষণের গাঢ়বদ্ধ বুননে একটি স্বতন্ত্র শৈলীতে হৃদয়ের ছবিগুলো একেবারে কবির নিজস্ব হয়ে উঠেছে। তাঁর চিত্রকল্পসম্ভার হতে অল্প কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো-
১. তোমাকে সহজেই
২. বুঝা দায়
৩. ললনা
৪. বাজিকর
৫. প্রনরেণী
৬. প্রলয়
৭. জীবনের গল্প
কবিতার নাম গুলো পড়েই মনে হয় এক একটা নাম একটি কাহিনী। ভালো করে পড়ে দেখুন একটি কবিতার সাথে অন্যটির সম্পর্ক বিদ্যমান।
তাঁর কবিতার ভাষা সমৃদ্ধ। শব্দ-বিশেষণ প্রয়োগে তিনি যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। কখনো গুণবাচক বিশেষ্যগুলোতেও স্বকীয় শৈলীশক্তির দ্বারা ব্যক্তি বা বস্তুর চরিত্র আরোপ করে বাণীবন্ধ গড়েছেন, কখনো বিশেষণের ব্যতিক্রমী প্রয়োগে অর্থ বা ভাবের ক্ষেত্রে নান্দনিক বৈশিষ্ট্য আরোপ করেছেন, কখনো বা একাধিক শব্দকে জুড়ে দিয়ে চিত্রল যুগ্মশব্দ গড়েছেন। চিত্রকল্প গড়ার তাড়না থেকে এমন একটি কাব্যশৈলী গড়তে চেয়েছেন বলেই হয়তো তিনি রীতিসিদ্ধ ছন্দ এড়িয়ে গেছেন এবং তথাকথিত কাব্যোপযোগী শব্দমালাকে আমল দেননি। এটাই স্বাভাবিক যে, একজন আধুনিক কবি সমগ্র বাংলাভাষার শব্দাবলীকেই তাঁর কাব্যভাষার অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং চিত্রকল্পকেই প্রাধান্য দেবেন। অবশ্য ব্যতিক্রমী চিত্রকল্প বা গভীর ভাবার্থমূলক বাণীবন্ধ নির্মাণে প্রয়াসী হয়েও অনেক কবি আবার গদ্যছন্দপ্রবাহের দিকে নজর দেন। কিন্তু রচনাশৈলী যার যার নিজস্ব, সর্বদা রীতিসিদ্ধ ছন্দ ও স্বচ্ছন্দ প্রবহমাণতা থাকতে হবে এমন কথা নেই। তবে তিনি অনেক কবিতায় অন্ত্যমিল প্রয়োগ করেছেন। পংক্তির অভ্যন্তরে পর্ববিন্যাস না থাকলেও টানা পাঠ বা আবৃত্তিতে কবির একটি আপন ছন্দের প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর অধিকাংশ কবিতার পংক্তিগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অপ্রবহমানতা; অর্থাৎ তাঁর একটি পংক্তিতে একটি চিত্রকল্প বা পূর্ণ বক্তব্য পরিদৃষ্ট হয় এবং এমনি সব পংক্তি একের পর এক সাজিয়ে সুচারুভাবে বিন্যাসের ফলে সবগুলো পংক্তি নিয়ে একটি সমন্বিত ভাব গড়ে ওঠে। আঙ্গিক গঠনে এসব বৈশিষ্ট্য আরোপের পরও কবিতার সেীন্দর্য ও মূল বক্তব্য অক্ষুন্ন থাকে। এর একটি দৃষ্টান্ত নিম্নে তুলে ধরা হলো-
তুমি অস্থির পাখি
আমি স্থির দগ্ধ কাঠ
জীবন ছাই হয়
অস্থির পাখিরা ঘুরে বেডায়
ছাই গুলো হাওয়ায় বিলীন।
পাখিরা আজ বেসামাল
হাওয়ার পাল ভিন্ন মুখী
ডানা গুলো পালকহীন
উড়ার আখাংকা অসীম
থেমে যায়না পথ চলা
পাখিরা উদ্দ্যেশে অটল
আকাশ পাখিদের দখলে
হাওয়ার গতি স্তিমিত।
তুমি ওপারে অদ্ভুত ইশারায়
এপারে আমি ঠিকানা বিহীন
এক ফালি চাঁদ
নিয়তির ফাঁদ
সূচনা হয় জীবনের নতুন নতুন গল্প
হয় না শেষ,
আমি কারারূদ্ধ ।
সবশেষে বলতেই হয়, বাঙালি সমাজকে আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরা অপসংস্কৃতি, অপরাজনীতি ও ভিনদেশী অপসভ্যতা থেকে রক্ষার মানসিকতায় কবি তাঁর দৃপ্ত লেখনী ধারণ করেছেন। জাতি ও সংস্কৃতির হারানো ঐতিহ্যকে ফিরে পাবার জন্য তাঁর অন্তরের যত আকৃতি কাব্যিক ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। এই দেশ ও এই দেশের মানুষ তাঁর মননে যে ইতিবাচক চেতনার সঞ্চার করেছে তা তুলনারহিত।
আমি গ্রন্থটির ব্যাপক প্রচার ও পাঠ আশা করি।
বইয়ের নামঃ স্বপ্ন সহচরী
লেখকের নামঃ মোহাম্মদ ছদর উদ্দিন
প্রকাশনীঃ শব্দগ্রন্থ প্রকাশনী
প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা ২০১৮
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৮
মূল্যঃ ———১৫০ টাকা

“ইচ্ছের হিমালয়”
অমর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে সমকালীন প্রেমের উপন্যাস “ইচ্ছের হিমালয়” যা একটি নিখুঁত প্রেমের জীবন চিত্র। লিখেছেন মোহাম্মদ ছদর উদ্দিন।
আচ্ছা আপনারা যদি একটা বই পড়তে গিয়ে মুভি দেখার স্বাদ পান, তবে কেমন লাগবে? জ্বী আজকে যে বইটি নিয়ে আলোচনা করব, সেটা পড়লে আপনারা মুভি দেখার স্বাদ পাবেন। অন্য সব লেখকদের থেকে এই বই এর লেখকের এখানেই পার্থক্য। তিনি শুধু আপনাদের গল্প শোনাবেন না, সাথে আপনাকে পুরো ব্যাপারটা কল্পনার চোখে তুলে দিবেন। এখানেই লেখক তার মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। আপনার মনে হবে লেখকের সাথে পুরো বই জুড়ে, পুরো ঘটনা জুড়ে লেখকের পাশাপাশি আপনি হাঁটছেন, পুরো ঘটনা নিজের চোখের সামনে দেখতে পারছেন। গুমোট স্বল্পলোকিত ইটপাথরের দালানের শহুরে জীবনের ভেতর থেকে উজ্জ্বল সবুজ দক্ষিণের বাতাসে মাতাল প্রেমের বনভূমিতে নিয়ে আসবে লেখক আপনাকে। অদ্ভুত এক শিহরনে, শিহরিত হবেন আপনি। মুহূর্তেই হারিয়ে যাবেন অন্য ভুবনে।
উপন্যাসের সারমর্ম :
তোফিক একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের উদ্যমি যুবক। নিজেকে বিখ্যাত কবি হিসেবে পরিচিতির নেশায় মত্ত থাকে।অর্থনৈতিক সংগ্রাম শুরুর প্রারম্ভেই ভালোবাসায় পদার্পণ। বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুবকের ভালোবাসার চলার পথ ভঙুর হয়ে উঠে পরিবারের সকল ভরসার আশার প্রতীক হয়েও কিছু করতে না পারার ব্যর্থতা আর ভালোবাসার মানুষকে পাবার নেশায় মত্ত থাকা যুবকের চরম বিপদের মুহূর্তেও কাছের বন্ধু শত্রু হয়ে উঠে। তরঙ্গের ন্যায় অসমান জীবনের সকল পরিক্রমায় কীভাবে জীবনের উত্থান ও পতন হয় সেই সব বাস্তব কাহিনী নিয়ে এই ইচ্ছের হিমালয় গল্পের প্রস্ফুটন হয়েছ।
তৌফিক ও অরিনের শেষ পর্যন্ত কি পরিণতি হয় তা জানতে প্রিয় পাঠক আপনাকে বইটি একবার পড়তেই হবে।
প্রিয় পাঠক বুঝতেই পারছেন! কেমন হতে পারে ইচ্ছের হিমালয় উপন্যাসটি। সত্যিই হিমালয়ের মতো উঁচু মানের গল্পে রচিত প্রেমের ও জীবন সংগ্রামের এই বইটি। বইটি পড়ার পর আপনার মনে হবে যে আপনিই বোধ এই গল্পের নায়ক কিংবা নায়িকা। কারন বইয়ের প্রতিটি চরিত্র লিখা হয়েছেবাস্তবতার নিরিখে।
বইয়ের নামঃ ইচ্ছের হিমালয়
লেখকের নামঃ মোহাম্মদ ছদর উদ্দিন
ঘরানা : সমকালীন রোমান্স
প্রকাশনীঃ অনিন্দ্য প্রকাশনী
প্রচ্ছদ ডিজাইনঃ ধ্রুব এষ
প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা ২০১৮
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২০
মূল্যঃ ১৫০ টাকা
লেখক পরিচিতিঃ
মোহাম্মদ ছদর উদ্দিন – কবিতা , জীবন দর্শন ও প্রেমের পূজারি। বোধের গভীরে ধারন করেন দেশমাতৃকার মর্মগাথা, প্রেম , বিরহ আর কবিতা নিয়ে নিত্য কারবার। কবিতার প্রতিপাদ্যে ভালোবাসা অগাধ। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে কবিতার পংকতিতে বাঁধার চেষটা করেন। অবসর আর মন খারাপ হলেই কবিতা পড়া কিম্বা লিখাই মূখ্য হয়ে উঠে। জীবনের তাগিদে পরবাসে পাড়ি দিলেও সর্বদা অন্তর আত্মার সংঙী হয়ে থাকে অকালে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় রাজকুমারী ও চিরন্তন প্রিয় বাংলাদেশ। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে কর্মরত। অধ্যয়ন করেছেন হেসাখাল বাজার উচ্চ বিদ্যালয় , জি. এম. হাট উচ্চ বিদ্যালয় , ফেনী সরকারি কলেজ ও জগন্নাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জন্ম কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানায়।
তিনি জীবনের গল্প লিখতেই পছন্দ করেন। নান্দনিক ভাবেই ফুটিয়ে তুলেন জীবনের ছোট ছোট গল্প গুলোকে। “ইচ্ছের হিমালয়” উপন্যাসটিও জীবনের গল্প থেকেই রচনা করেছেন।
যোগাযোগ :
Email: sadar82@gmail.com Facebook: https://www.facebook.com/sadar.shisir
লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থাবলি : অশ্রু নহরে জল (২০১৭) ইচ্ছের হিমালয় (২০১৮) স্বপ্ন সহচরী (২০১৮)
প্রাপ্তিস্থানঃ
· শব্দগ্রন্থ প্রকাশনী ,বই মেলা স্টল নং ——
· অনলাইন পরিবেশক : রকমারি ডট কম যোগাযোগ – ১৬২৯৭ # ০১৫ ১৯৫২ ১৯৭১
এ ছাড়া ও পাওয়া যাবে :-
· সাহিত্য বিচিত্রা , ৩৬ জামে মসজিদ মার্কেট , আন্দরকিললা , চট্টগাম।
· প্রিন্স লাইব্রেরি , ১৬০ আল জামেয়া মার্কেট , চট্টগ্রাম।
· মাস্টার লাইব্রেরি , মেইন রোড , নাঙ্গল কোট বাজার।
· পাঠক বন্ধু লাইব্রেরি (গ্রীন টাওয়ারের পাশে), এস. এস.কে রোড , ফেনী
· আজিজিয়া লাইব্ররী ফেনী দিঘির পশ্চিম পাড়, কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন
· ফেনী লাইব্ররী , কলেজ রোড , ফেনী
· গ্রন্থ মেলা , অনলাইন বুক শপ, মোবাইল নং – ০১৮৬৫ ৩৩৪২১০




