ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি !
জিএস নিউজ ডেস্কঃ>>>>
বাংলাদেশের একজন গ্রাহকের অজান্তে তার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল হক মজুমদার স্বপনের কার্ড ব্যবহার করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা হয়।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে একটি লেনদেনের তথ্য আসে গত ২৫ মে সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিটে। তাতে লেখা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন উইন্ড ড্রিফ্টে শূন্য দশমিক ৫৬ ডলারের একটি পেমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে।
Sorry sir, your NBL Dual Visa Card #4093**9799 has been declined for USD 0.56 on 25/05/2017, 07:54 PM at WIND DRIFT #7919593427 HOUSTON US due to unavoidable circumstances. Pls contact with us.
অধ্যাপক স্বপন বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি এই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। সর্বশেষ বিদেশে পেমেন্ট করেছেন তিন বছর আগে।
“তাহলে এই এসএমএস এর মানে কী?”
বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের কল সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি বলে জানান স্বপন।
“পরে বলা হয় এই ক্রেডিট কার্ডটি পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।”
কার্ডের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও কেন তা পরিবর্তন করা হবে সে বিষয়ে জানতে চান তিনি।
“তখন বলা হয় আরও কিছু কার্ডে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তাই কার্ড পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এসএভিপি পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কিছু কার্ড হ্যাকড হয়েছে। শুধু আমাদের না কয়েকটা ব্যাংকের কার্ড এভাবে হ্যাকড হয়েছে। এ ধরনের হ্যাকড প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে।”
এ ঘটনায় তাদের গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি দাবি করে বেসরকারি ব্যাংকটির এই কর্মকর্তা বলেন, “হ্যাকড কার্ডগুলো আমরা রিপ্লেস করে দিয়েছি।”
গত মার্চে ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক এটিএম কার্ড জালিয়াত চক্রের’ সন্দেহভাজন ১১ সদস্যকে আটক করে র্যাব। তাদের কাছ থেকে বিশেষ ধরনের প্রিন্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, প্রায় এক হাজার সাদা কার্ড, কার্ড পাঞ্চ করার ছয়টি মেশিন উদ্ধার করা হয়।
কার্ড জালিয়াতির প্রক্রিয়া তুলে ধরে র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়,, বিদেশি কার্ড জালিয়াত চক্রটি ইন্টান্যাশনাল এটিএম কার্ড হ্যাকের পর পিন নম্বর সংগ্রহ করে। পরে সেই পিন নম্বর বাংলাদেশের এই চক্রের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এরপর বিশেষ মেশিনের মাধ্যমে সেই পিন নম্বর দিয়ে কার্ড তৈরির পর টাকা তুলে নেয় বা বড়বড় শপিংমলের কার্ড পাঞ্চ করার মেশিনের (সুইপ মেশিন) মাধ্যমে পণ্য ক্রয় বা নগদ টাকা নিয়ে থাকে।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর টাকা লোপাটের ঘটনা জানাজানি হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্তে নামে। জানা যায়, ব্যাংকগুলোর ৩৬টি কার্ড ক্লোন করে ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে জালিয়াতরা। ওই চক্র অন্তত ১২০০ কার্ডের তথ্য চুরি করে বলেও উঠে আসে তদন্তে।
পরে এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরার ছবি দেখে এক জার্মান নাগরিক ও তিন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পিওতর সেজেফান মাজুরেক নামের ওই বিদেশির দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটিএমের বাইরে ব্যাংকিং চ্যানেল ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতেও ওই চক্র জড়িত। তাদের হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।



